
কুমিল্লার মুরাদনগরে গৃহবধূ আফসানা আক্তার হ্যাপি (২৮) হত্যা মামলার আসামি গোলাম জিলানীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার টনকী বাজার এলাকায় কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করে চৈনপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এতে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, টনকী গ্রামের বারিয়াপাড়া এলাকার কনু মিয়ার ছেলে গোলাম জিলানী দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূ আফসানা আক্তার হ্যাপিকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় গত ৬ জুলাই দুপুরে বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে হ্যাপিকে ধর্ষণ করেন। পরে তার মুখে জোর করে বিষাক্ত কীটনাশকের ট্যাবলেট খাইয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তারা। হ্যাপির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বক্তারা বলেন, নিহত হ্যাপির তিনটি অবুঝ কন্যাসন্তান রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে একটি পরিবার পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘটনার সাত দিন পার হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মাওলানা আলাউদ্দিন, মাহমুদ হানজালা, সেলিম মুন্সী, আল আমিন, শিশু মরিয়ম ও আয়েশা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোকমান হোসেন, আবদুর রহমান, ইমরান মাজহারী, ওমর ফারুক, মাহফুজুল ইসলাম, ক্বারী আতিকুর রহমান, হৃদয় মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আল আমিন বাদী হয়ে গত ৭ জুলাই বাঙ্গরা বাজার থানায় গোলাম জিলানীকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :