রাণীনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড | Daily AjKaler Kontho

রাণীনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড


মোঃ রায়হানুল হক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ন
রাণীনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড

নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে ভাসমান ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত কয়েক দিন ধরে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রবিবার দুপুরে উপজেলার মালঞ্চি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাবিলা ইয়াসমিন। এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় জরিমানা বা সাজা দেওয়া সম্ভব না হলেও বালু উত্তোলনের পাইপগুলো খুলে দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গুলবর হোসেন নামে এক ব্যক্তি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি কাজের অজুহাত দিয়ে ছোট যমুনা নদীর রাণীনগর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত অংশ থেকে এই বালু উত্তোলন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট যমুনা নদীর রাণীনগর অংশের মালঞ্চি নামক স্থানে বাঁধ রক্ষার নামে ‘জরুরি কাজ’ হবে—এমন অজুহাতে গত মঙ্গলবার থেকে দুটি ভাসমান ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়। সরকারি কোনো অনুমতি ছাড়াই নদী থেকে বালু তোলার খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি)। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে কাউকে না পেয়ে ড্রেজার মেশিনের পাইপগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ভাসমান ড্রেজারের মালিক গুলবর হোসেন বলেন,আমি বালু তোলার ব্যবসা করি। অফিসের লোকজন আমাকে বালু তোলার কাজে নিয়ে যায়। চুক্তিমতো ইতিমধ্যে আমি নদী থেকে প্রায় ২০ হাজার সেফটি বালু তুলেছি।

আজ দুপুরে এসিল্যান্ড এসে আমার মেশিনের পাইপ খুলে দিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কার সঙ্গে চুক্তি করে তিনি এই বালু তোলার কাজ করছিলেন, সে বিষয়ে কোনো নাম প্রকাশ করতে অপরাগতা জানান গুলবর।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি আরও বলেন, চক্রটি ইতিমধ্যে কিছু বালু উত্তোলন করলেও সেগুলো কোথায় বিক্রি করা হয়েছে বা সরবরাহ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আপাতত ড্রেজারের পাইপগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আর বালু তুলতে না পারে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি