
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কামাল খামার ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যরা। একই সঙ্গে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদ্রাসার সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নিং বডির ১১ জন সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গভর্নিং বডির সদস্য মাওলানা আব্দুল মান্নান। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন মো. মাসুদ আলী।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে সভাপতি পদে বসিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ভিন্নমতের ব্যক্তিদের দায়িত্বে এনে নিজের সুবিধা আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়।
অভিযোগকারীরা বলেন, অধ্যক্ষ নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করা হয় এবং কখনও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তথ্য গোপন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগ তুলে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ দৈনিক জনতা পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্বচ্ছতা ছিল না এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং কমিটির ১১ জন সদস্য ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন।
এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। তারা মাদ্রাসার সুশাসন, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলী মোবাইল ফোনে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :