সিলেটে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হতে বসেছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য, হুমকিতে শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার | Daily AjKaler Kontho

সিলেটে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হতে বসেছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য, হুমকিতে শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার


ছাইম ইবনে আব্বাস, গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৭, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ন
সিলেটে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হতে বসেছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য, হুমকিতে শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার

সিলেটের গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায় পাঁচ শতাব্দী পুরোনো ঐতিহ্য শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.)-এর মাজার ও সংলগ্ন মসজিদ। ইতোমধ্যে মাজারের সীমানা প্রাচীরের উল্লেখযোগ্য অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, আর মাজারে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটিও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই ইতিহাসের এই নিদর্শনটি মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে।

উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইচক গ্রামে অবস্থিত এই মাজারটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এটি স্থানীয় মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। কিন্তু সম্প্রতি কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। নদীর তীর ক্রমেই ভেঙে পড়ছে, ফলে মাজার ছাড়াও আশপাশের ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

মাজারের খাদিম শামসুল ইসলাম গেদাই জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং প্রায় ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনও দেওয়া হয়। তবে ঠিকাদার না পাওয়ায় এতদিন কাজ শুরু হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এভাবে দেরি হলে কিছুই আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা জেড রহমান জুনু বলেন, “এই মাজার আমাদের এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। প্রতিদিন মানুষ এখানে আসে শান্তি ও প্রার্থনার জন্য। কিন্তু এখন আমরা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে শুধু ভাঙন দেখছি—মনে হচ্ছে চোখের সামনে আমাদের ইতিহাস বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”

এদিকে, গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় প্রতিরোধমূলক কাজের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীও বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.)-এর মাজার আমাদের অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।” তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। “মানুষের জীবন রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে,”যোগ করেন তিনি।

এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করছে গোলাপগঞ্জের মানুষ। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষা এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা দেখছে তাদের শত বছরের ঐতিহ্য ধীরে ধীরে নদীর গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগই পারে এই ঐতিহাসিক মাজার ও এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি