
লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সম্মিলিত অংশগ্রহণে সুশৃঙ্খল ও শান্ত পরিবেশে শেষ হয়েছে উপমহাদেশখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)–এর ১৮তম ঈসালে সাওয়াব মাহফিল।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় মরহুমের পবিত্র মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের সূচনা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয় খতমে কুরআন, সম্মিলিত দুআ, খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম, যিকর মাহফিল, তাত্ত্বিক ও বিষয়ভিত্তিক বয়ান এবং স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা। দীর্ঘ সময়ব্যাপী এ মাহফিল শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিসমাপ্তি ঘটে।
মাহফিলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মুর্শিদ হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী। তাঁর আগমনে বালাই হাওর প্রাঙ্গণে এক অনন্য ভাবগম্ভীরতা ও আত্মিক প্রশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অপরদিকে ছোট ছাহেবজাদা মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে গভীর প্রভাব ফেলে।
এতে ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)–এর ছাহেবজাদাগণের পাশাপাশি মদিনা শরিফ থেকে আগত সায়্যিদ আল হাবীব আসিম আদী ইয়াহইয়া এবং জেদ্দার খ্যাতনামা আলেম সায়্যিদ আল হাবীব ওমর আহমদ আল হাবশী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে মাহফিলের মর্যাদা ও তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পায়।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরাও মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মনোনীত সিলেট–৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালেক ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
মাহফিল শেষে বালাই হাওর এলাকা থেকে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ছেড়ে যাওয়ায় সিলেট–জকিগঞ্জ সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :