
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রায়পুর বাজারে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের হাইড্রোলিক হর্ন এখন নিয়ন্ত্রণহীন শব্দদূষণের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। মধ্য বাজার, মার্চেন্ট একাডেমি রোড, মেইন রোড, আলিয়া মাদ্রাসা রোড এবং সাবেক সোনালী ব্যাংক রোডজুড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চমাত্রার হর্নে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। যানজটের সঙ্গে মিলিয়ে এই শব্দদূষণ বাজারকে অসহনীয় করে তুলেছে।
দিনভর শব্দে বিপর্যস্ত বাজার
বাজারের বিভিন্ন দোকান ও সড়কের ব্যবসায়ীরা জানান, হাইড্রোলিক হর্নের তীব্র শব্দে দিনভর কানে ঝাঁঝরা ভাব, মাথাব্যথা ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। তারা জানান, “পাঁচ–দশ মিনিট গাড়ি চললেই কানে চাপ পড়ে এবং কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলাও কঠিন হয়ে যায়।”
বাণিজ্যিক সড়কের দোকানদাররা আরও বলছেন—
“সবাই দেখছে, সবাই শুনছে; কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। আমরা প্রতিকার চাইবো কার কাছে? দেশে আইন আছে, কিন্তু কতটা প্রয়োগ হচ্ছে?”
পথচারীরাও অতিষ্ঠ
কয়েকজন পথচারী জানান, সারাদিন হাইড্রোলিক হর্নের শব্দে তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং বাসায় গেলে পরিবার ও সামাজিক জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এক পথচারী বলেন—
“সারাদিন এই শব্দ মাথার উপর পড়ে। বাসায় গেলে পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলারও মন থাকে না। এটি এখন নিত্যদিনের সমস্যা।”
শব্দের মাত্রা ও সময়
স্থানীয়রা জানান, সবচেয়ে বেশি তীব্রতা থাকে—
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা,
বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা।
এই সময়ে অনেক চালক ঘণ্টায় গড়ে ৪০–৫০ বার হর্ন বাজাচ্ছেন।
বণিক সমিতির প্রতিক্রিয়া
রায়পুর বণিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক জানান—
“বাজারের শব্দদূষণ আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দাবি, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার সীমিত করা, কঠোর ট্রাফিক নজরদারি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ ছাড়া রায়পুর বাজারের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
আপনার মতামত লিখুন :