
খানসামা ডিগ্রী কলেজের নিয়মিত অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন মোঃ আনিছুর রহমান ২০১৬ পর্যন্ত অবসরজনিত কারণে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য হওয়ার কারনে নিয়ম অনুযায়ী জ্যৈষ্ঠ প্রভাষকদের দায়িত্ব না দিয়ে প্রভাষক সাইফুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট প্রজন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সাইফুল ইসলাম খানসামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তিনি কলেজে অনিয়মিত হওয়ায় তার পরিবর্তে মোঃ জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন।
পরিপত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব কাল হলো কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য হইলে/অধ্যক্ষের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উপাধ্যক্ষ/জ্যেষ্ঠতম ০৫ (পাঁচ) জন শিক্ষকের মধ্য হইতে যে কোন একজনকে দায়িত্ব প্রদান করিতে হইবে এবং সেই সঙ্গে পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করিতে হইবে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানের ১ (এক) বৎসরের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগদান করিতে ব্যার্থ হইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরকৃত কাগজপত্র ও কার্যবিবরণী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত অথবা গৃহীত হইবে না।
খানসামা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রশীদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন ৩১ আগস্ট ২০২৫।
আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, “আমি বর্তমানে খানসামা ডিগ্রী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে পূর্বের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব ছাড়ার পর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জিল্লুর রহমান কলেজের শিক্ষাবিষয় পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী সিনিয়র ৫ জনের মধ্যে ছিলেন না। শিক্ষক প্যাটার্ন অনুযায়ী সিনিয়র ৫ জনের মধ্যে আমার অবস্থান দ্বিতীয়। আমার সিনিয়র জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নবকান্ত শর্মা দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক নন। অতএব, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুসারে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিলে আমি তা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।”
এরপর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে খানসামা ডিগ্রী কলেজে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য এডহক কমিটির সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকারের স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৭ (র-৭৭৮) আতিঃচ্ছি/কঃপঃ/কোড-৩৪৪৫/৯৮২৯, তারিখ ০৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত)-২০১৯ এর ধারা ৪ এর ২ (১) ও (ii) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এই আদেশের বিষয়ে মুঠোফোনে বর্তমান কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোকছেদুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান এই বিষয়ে কোনো চিঠি এখনো আমার হাতে আসেনি।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই নির্দেশনার ফলে খানসামা ডিগ্রী কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও নীতিনির্ভরভাবে পরিচালিত হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :