
জালাল উদ্দিন, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : মাঠ জুড়ে পানি, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের অবস্থা। দরজা-জানালা সব ভেঙে গেছে, রুমের টিনগুলো জরাজীর্ণ, টিনগুলোও খুলে পড়ছে। বর্ষাকালে বৃষ্টি এলে পানি পড়ে শ্রেণীকক্ষে, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, শীত-রোদ-বৃষ্টি যাই হোক, ক্লাস করতে মন বসে শিক্ষার্থীদের।
এমন চিত্র নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের দস্তানানগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। শিক্ষার্থী রয়েছে ১৭২ জন। বিদ্যালয়টি ২০২৩ সালে এমপিও ভুক্ত হলেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার উপযোগী যে পরিবেশটুকু দরকার তার ছিটেফোঁটাও নেই এখানে। শিক্ষার উপযোগী পরিবেশের অভাবে প্রতি বছরই বিদ্যালয়টিতে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। মাঠে জলাবন্ধতায় থাকে ৩ থেকে ৪ মাস। সেই পানি মাড়িয়ে ক্লাস রুমে যেতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন হলেও রয়েছে দুই কক্ষের দুইটি রুম। এতে পাঠদানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি এলে তাদের শরীরে পানি পড়ে, জামাকাপড়, বইখাতা ভিজে একাকার হয়ে যায়। দরজা-জানালা ভাঙা ঘরে তাদের ক্লাস করতে মন চায় না।
তাদের কথায়, ঘরের চাল যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। অন্যদের বিদ্যালয় তো এমন নয়, তাহলে আমাদের বিদ্যালয় এমন ভাঙাচোরা কেন? বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিব মাহাতু বলেন, পানি মাড়িয়ে ক্লাস রুমে যেতে হয়। জরাজীর্ণ ক্লাস রুম। বিকল্প কোনো ভবন না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে সেখানেই পাঠদান করতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনের রুমে বাধ্য হয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এখানে নতুন ভবন প্রয়োজন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাদিম মোস্তফা বলেন, আমাদের স্কুলটি অবকাঠামোর দিক থেকে অন্যান্য স্কুল থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের পাঁচটি শ্রেণীকক্ষের প্রয়োজন। রয়েছে মাত্র দুইটি। স্কুল মাঠটিও দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। মাঠে ৩ থেকে ৪ মাস জলাবন্ধতা লেগে থাকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিদ্যালয়টির বিষয়ে অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি/জে
আপনার মতামত লিখুন :