
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও সৌন্দর্যের অনন্য প্রতীক শাহজামান দিঘী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের পাশেই অবস্থিত এ দিঘী প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় মানুষদের বিনোদন, আড্ডা ও প্রশান্তির প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
তিন শতকের ইতিহাস
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬৬৮ সালে স্থানীয় সুফি সাধক পীর শাহজামান (রহ.) মানুষের পানির চাহিদা মেটানো ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে দিঘীটি খনন করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ জলাশয় শুধু পানি সরবরাহের উৎসই নয়, বরং স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও পরিচিত। মাভাবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার পর এটি নতুনভাবে আলোচনায় আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রাণকেন্দ্র
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শাহজামান দিঘী শুধু একটি জলাশয় নয়—এটি তাদের আড্ডা, বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির আশ্রয়। সি.পি.এস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব রনি বলেন,
> “দিঘীর পাড়ে বসে আমরা পড়াশোনার চাপ ভুলে সময় কাটাই। এখানে স্থাপিত বেঞ্চগুলো শিক্ষার্থীদের আড্ডার অন্যতম স্থান।”
অপর এক শিক্ষার্থী মো. শাকিল খান বলেন,
> “শাহজামান দিঘী কেবল একটি জলাশয় নয়, বরং এটি প্রায় তিন শতকের ইতিহাস ধারণ করে আছে। কর্তৃপক্ষের উচিত এর সঠিক সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।”
সংরক্ষণের অভাব ও হুমকির মুখে সৌন্দর্য
বর্তমানে দিঘীর চারপাশে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে পানি দূষণ, আবর্জনা ফেলা এবং জলজ উদ্ভিদের বিস্তার এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দাবি জানিয়েছেন।
সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র
ইতিহাসবিদদের মতে, শাহজামান দিঘী কেবল মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের নয়, বরং সমগ্র সন্তোষ অঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রতীক। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হলে এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্য একটি অন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
আজকালের কন্ঠ /রাজ / এম
আপনার মতামত লিখুন :