কুম্ভের মহামিলনে কদমবাড়ি | Daily AjKaler Kontho

কুম্ভের মহামিলনে কদমবাড়ি


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মে ২৯, ২০২৫, ৩:৩৯ অপরাহ্ন
কুম্ভের মহামিলনে কদমবাড়ি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাশ্ববর্তী জেলা মাদারীপুরের রাজৈরের কদমবাড়ি-দীঘিরপাড় মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী তিন দিন ব্যাপী কুম্ভমেলার আজ শুক্রবার (৩০ মে) সমাপ্তি । গত বুধবার (২৮ মে) বিকাল থেকে এ মেলা শুরু হয়। রাতে এ মেলায় কমপক্ষে ২০ লাখ ভক্তের সমাগম ঘটে বলে দাবি করেন আয়োজকেরা।

জানা যায়, ১২৮৮ বঙ্গাব্দে (১৮৮১ খ্রি.) অর্থাৎ ১৩৯ বছর আগে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ জ্যৈষ্ঠ রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ির দীঘিরপাড় ভারতের কুম্ভমেলাকে অনুসরণ করে এ মেলার আয়োজন করেন। সেই থেকে কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় গনেশ পাগল সেবাশ্রমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

তিন পর্যন্ত এ মেলায় ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাড়ি-ঘর, মাঠ-ঘাট ও ক্ষেত-খামারে দিন-রাত মুখরিত থাকে মানুষের পদচারণায়।আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, সত্য যুগে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনে যে অমৃতসুধা উঠেছিল তা চারটি কুম্ভপাত্রে ভারতের হরিদ্বার, প্রায়াগ,
উজ্জয়িনী ও নাসিকের চার স্থানে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে সাধু- সন্নাসীরা কুম্ভ মেলার আয়োজন করেন।

বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, চিটাগং, রংপুর, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, গৌরনদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে মানুষ এ মেলায় আসে । এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপাল থেকেও বহু ভক্ত, সাধু- সন্নাসীরা আসেন এখানে।

এদিকে মেলা উপলক্ষে সাত দিন আগে থেকে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসেন দোকানিরা। বাঁশ-বেতের শিল্প কারুকাজ খচিত গৃহস্থলী মালামাল, মৃৎশিল্প বা মাটির তৈরী তৈজসপত্র, বাহারী মিষ্টি, দৃষ্টি আকর্ষণীয় খেলনা ও বাহারী প্রসাধনী পণ্যের প্রায় দুই সহস্রাধিক স্টল বসেছে মেলা প্রাঙ্গনে।

মেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণব বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত ভক্তদের আপ্যায়নের জন্য চিড়া, গুড়, চাল, ডাল ও খিচুড়ি প্রসাদের আয়োজন করা হয়।

রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শেখ সাদি বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেলা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগ থেকেই কদমবাড়ী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ বিভাগ) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে ডিএসবি, ডিবি, র‌্যাব-৮ এর সদস্য ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা আছে।