উপাচার্যের পদত্যা'গ দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ববি’র শিক্ষার্থীদের বিবৃতি | Daily AjKaler Kontho

উপাচার্যের পদত্যা’গ দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ববি’র শিক্ষার্থীদের বিবৃতি


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মে ৭, ২০২৫, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
উপাচার্যের পদত্যা’গ দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ববি’র শিক্ষার্থীদের বিবৃতি

আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড.শুচিতা শরমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ববি’র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিবৃতি দেওয়া বিভাগের মধ্যে রয়েছে আইন বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কোস্টাল এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, বায়োকেমিস্টি বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ ও বাংলা বিভাগ।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয় “আমরা বিশ্বাস করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন তার প্রশাসনিক নেতৃত্ব স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব হয়। বর্তমানে স্বেচ্ছাচারী ও অযোগ্য উপাচার্যের বিরুদ্ধে চলমান একদফা আন্দোলনেও আমরা পূর্বের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করছি।

বর্তমান উপাচার্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ। তাঁর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। জরুরি ফাইলে স্বাক্ষর পেতে মাসের পর মাস লেগে যায়, আর মাসের অধিকাংশ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়লেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায় না। এর পাশাপাশি, আওয়ামী পুনর্বাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অধ্যাপক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ড. মহসীন উদ্দিন স্যারকে অসম্মানজনক ভাষায় নোটিশ প্রদান করে তাকে অবৈধভাবে একাডেমিক ও সিন্ডিকেট কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে- যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার পরিপন্থী ও দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ।

উপাচার্যের দায়িত্বকালে শিক্ষক, ক্লাসরুম ও আবাসন সংকট নিয়ে কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার করা নিয়ে তীব্র অনিহা প্রকাশ পেয়েছে বরং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে দমন করতে তিনি মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশ্রয় নিয়েছেন। এটি কেবল উদ্বেগজনক নয়, বরং চরম স্বেচ্ছাচারিতার পরিচায়ক এবং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই প্রেক্ষাপটে, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সকল শিক্ষার্থীরা চলমান একদফা- অযোগ্য উপাচার্যের অপসারণ- এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও একাত্মতা ঘোষণা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আন্দোলন অত্যন্ত সময়োপযোগী, ন্যায়সঙ্গত এবং জরুরি।”