অভিযোগ জানাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার জবি শিক্ষার্থী | Daily AjKaler Kontho

অভিযোগ জানাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার জবি শিক্ষার্থী


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৫, ১১:০৬ অপরাহ্ন
অভিযোগ জানাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার জবি শিক্ষার্থী

জবি প্রতিনিধি : “বের হয়ে যাও! ওরে বের করে দাও! বিশ্ববিদ্যালয়ে কেনো পড়তে এসেছো? এলাকার কলেজে পড়লেই তো পারতে!” — ঠিক এমনই ভাষায় দুর্ব্যবহার করে অভিযোগ দিতে আসা শিক্ষার্থীদের রুম থেকে বের করে দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন। অভিযোগকারীদের একজন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীব।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল (২২ এপ্রিল) মঙ্গলবার। শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের গ্যারেজ থেকে গত তিন মাসে একাধিক সাইকেল চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে রেজিস্ট্রারের কক্ষে যান ইভান তাহসীবসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। কিন্তু অভিযোগের সমাধান না করে, উল্টো উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন রেজিস্ট্রার।

প্রতিবেদকের কাছে আসা একটি অডিও ক্লিপে শোনা যায়, রেজিস্ট্রার ড. গিয়াস উদ্দিন উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের মালামালের নিরাপত্তা দিতে পারবো না, মালামাল নিজেদের দায়িত্বে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে, কী খাবে— এটা প্রশাসনের দায়িত্ব না। যদি কিছু হয়, বিশ্ববিদ্যালয় তার দায়ভার নেবে না।”

অভিযোগকারী ইভান তাহসীব বলেন, “আমার এক ছোট ভাইয়ের সাইকেল চুরির বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে রেজিস্ট্রার প্রথমেই বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গ্যারেজ নেই। গ্যারেজের নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নিতে পারবেন না। শিক্ষার্থীরা টিউশনির টাকা জমিয়ে সাইকেল কেনে, সেই সাইকেল দিয়েই আবার টিউশনি করে। যদি নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাহলে গ্যারেজ বন্ধ করে দেওয়া হোক, বা জানিয়ে দেওয়া হোক বিশ্ববিদ্যালয় কোন মালামালের দায় নেবে না।”

ঘটনার একপর্যায়ে রেজিস্ট্রার তাকে রুম থেকে বের করে দেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে রেজিস্ট্রারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলেছি। এটা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তারা সরাসরি আমার অফিসে জমা দিক। আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।