লিবিয়ায় মানব পাচারের নির্মমতা, ৫০ মৃতদেহ উদ্ধার | Daily AjKaler Kontho

লিবিয়ায় মানব পাচারের নির্মমতা, ৫০ মৃতদেহ উদ্ধার


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৫, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
লিবিয়ায় মানব পাচারের নির্মমতা, ৫০ মৃতদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকায় দুটি গণকবর থেকে প্রায় ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। রোববার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় থাকা অভিবাসীদের জন্য এটি আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা।

এর আগে শুক্রবার কুফরা শহরের একটি খামারে প্রথম গণকবরটির সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে ১৯টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে শহরের নিরাপত্তা অধিদপ্তর। তারা মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, পুলিশ ও মেডিকেল টিম মরুভূমির বালির নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করছে, যেগুলো কম্বলে মোড়ানো ছিল।

কুফরাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আল-আব্রিন চ্যারিটি জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তারপর তাদের কবর দেওয়া হয়।

একই দিনে কুফরায় মানবপাচার চক্রের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে অন্তত ৩০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। কুফরার নিরাপত্তা চেম্বারের প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাদিল জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই গণকবরে প্রায় ৭০ জনকে দাফন করা হয়েছে।

পরে কর্তৃপক্ষ মানবপাচার কেন্দ্র থেকে ৭৬ জন অভিবাসীকে মুক্ত করে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে একজন লিবিয়ান ও দুইজন বিদেশি নাগরিক। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলার সময় তাদের আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রসিকিউশন।

লিবিয়ায় অভিবাসীদের গণকবরের সন্ধান নতুন কিছু নয়। গত বছর দেশটির শুয়াইরিফ অঞ্চলে অন্তত ৬৫ অভিবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত লিবিয়া। ২০১১ সালে স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি সরকার কার্যত আলাদা শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করছে, যাদের প্রত্যেকটির পেছনে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তির সমর্থন রয়েছে।