
ওবায়দুল্লাহ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : প্রতি বছর স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পা রাখে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। ব্যতিক্রম ঘটেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও। লাল পাহাড়ের পাদদেশে, সবুজে ঘেরা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কোলে অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে নবীন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের দিনগুলোতে রয়েছে তাদের নানা প্রত্যাশা। সেসব প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন ওবায়দুল্লাহ।
নুসফিকা খানম প্রীতি
শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া। আমারও তেমনি স্বপ্ন ছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার মধ্যে দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। লাল পাহাড়ের পাদদেশে নৈসর্গিক প্রকৃতির কোলে অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য আমাকে বিমোহিত করেছে । ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার পর এক ধরনের গর্ব অনুভূত হয়। এটি একটি নতুন যাত্রা যেখানে ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের দিনগুলোতে নিজেকে দেশের জন্য যোগ্য করে তুলতে চাই। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সময় দিতে চাই।
মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার খবর শোনার পর আমার অনুভূতি ছিলো সত্যিই অসাধারণ ! নতুন অধ্যায় শুরু করার উত্তেজনা, পরিবারের গর্ব, এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকে প্রথম ধাপ এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ—সব মিলিয়ে অনুভূতিটা একেবারে অনন্য। ক্যাম্পাসে প্রথম দিন পা রাখা থেকেই মনে হচ্ছিল, আমি যেন একটা নতুন জগতে প্রবেশ করেছি। চারপাশের গাছগাছালি, শিক্ষার্থীদের কোলাহল, আর ক্লাসরুমের প্রাণবন্ত পরিবেশ—সব কিছুই প্রথমদিকে নতুন আর রোমাঞ্চকর মনে হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই নতুনত্বটা আরেক ধাপে চলে গেছে। ক্যাম্পাস এখন একটা পরিবারের মতো লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, লাইব্রেরিতে সময় কাটানো, আর টিউটোরিয়ালের দৌড়ঝাঁপ—সব কিছু মিলে জীবনটা যেন একটা সুন্দর ছন্দে চলছে। এই ছন্দের সাথে সাথে নিজেকে তৈরি করে নিতে চাই সামনের দিনের জন্য। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কাজ করে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চাই।
আতকিয়া ফাইরোজ (মিতাশি)
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ

কুমিল্লা বিশ্বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে একই সাথে আমার দুইটি ইচ্ছা পূরণ হয়ে যায়। প্রথমত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আর দ্বিতীয়ত আইন নিয়ে পড়ার ইচ্ছা। কিন্তু বাসা থেকে কখনো দূরে থাকা হয়নি তাই ভয় কাজ করেছে অনেক। পরিবার ছাড়া অচেনা জায়গায় কিভাবে চলবো বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু সময় যেতে যেতে এখন কুমিল্লা বিশ্বিদ্যালয়ের প্রকৃতিতে শান্তি খুঁজে পাই। একজন দক্ষ আইনজীবী হওয়ার জন্য যে ধরণের কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে যেতে হয় ঠিক সেভাবেই নিজেকে গড়ে তুলতে চাই।
আশিকুর রহমান
শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো এ স্বপ্নের বুনন কলেজে পড়াকালীন অবস্থা থেকেই ছিলো। এ স্বপ্নের পূর্ণতা ঘটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে।শীতের আগমনী বার্তায় হেমন্ত ঋতুতে লালমাটির সবুজ ক্যাম্পাসে আমার যাত্রা শুরু হয়। লাল-সবুজের পাহাড় ঘেরা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেককেই আকর্ষিত করবে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী এবং সিনিয়রদের আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব, ক্যাম্পাস লাইফের প্রতিটি দিনকে আনন্দঘন করে তুলেছে। আর এ আনন্দঘন ও সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে নিজেকে একজন সফল শিক্ষার্থী হিসবে গড়ে তুলবো এ প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছি। আমার নতুন এ পথযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করে, পরিবার, সমাজ, বিশ্ববদ্যালয় তথা দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।
আপনার মতামত লিখুন :