
সিলেটের গোলাপগঞ্জে দেশীয় অস্ত্রসহ আব্দুর রহিম (৫৫) নামে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মোল্লাগ্রামে তাঁর নিজ বসতবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম মোল্লাগ্রামের মৃত আব্দুল মুতলিবের ছেলে। তিনি ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছবেদ আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। থানা পুলিশের প্রেসনোটে জানানো হয়, ডিউটি অফিসারের সরকারি মোবাইল নম্বরে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুর রহিমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে ধাওয়া এবং মারধরের অভিযোগ ওঠে। গত রোববার উপজেলার একটি ইটভাটায় লায়েছ নামে এক যুবককে লম্বা দা হাতে ধাওয়া করার অভিযোগ করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এ সময় ইটভাটার কর্মচারী ও উপস্থিত লোকজন তাঁকে বাধা দেন বলে জানা গেছে।
এর পরদিন সোমবার এক ভাসমান ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির সামনের সড়কে এক ফেরিওয়ালাকে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর আব্দুর রহিমের সহোদর আবুল হোসেন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে অনিক আহমদ সেবুল নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় তাঁর নাকে ঘুষি লাগলে তিনি রক্তাক্ত হন।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়তেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পৃথক অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওসি ছবেদ আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আব্দুর রহিমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :