দেবিদ্বারে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে অবৈধ ড্রেজার, ধ্বংসের মুখে কৃষিজমি | Daily AjKaler Kontho

দেবিদ্বারে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে অবৈধ ড্রেজার, ধ্বংসের মুখে কৃষিজমি


কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ন
দেবিদ্বারে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে অবৈধ ড্রেজার, ধ্বংসের মুখে কৃষিজমি

কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন। একের পর এক ফসলি জমি থেকে বালি ও মাটি উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি, হুমকির মুখে পড়ছে জমির স্বাভাবিক গঠন, সেচ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দেওয়ার মাধ্যমে প্রভাবশালী একটি ড্রেজারচক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার ৯নং উত্তর গুনাইঘর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাঙ্গরা মৌজায় হারুন মোল্লার কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. বাবুল মিয়া ও কাইয়ুমের নেতৃত্বে একটি চক্র সেখানে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি অবৈধ ড্রেজার সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

ড্রেজার দিয়ে গভীরভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে আশপাশের কৃষিজমির সীমানা ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেচ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে ড্রেজারচক্রের লোকজনের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয় তাঁদের। এ কারণে অনেক কৃষক প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

এলাকাবাসীর দাবি, কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন বাঙ্গরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার বিকল করে এবং মাটি উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযান শেষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় ড্রেজারচক্রের লোকজন এক গ্রাম পুলিশকে মারধর করে। পরদিনই একই এলাকায় নতুন করে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করা হয়।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, প্রশাসনের অভিযানের পরও একই স্থানে ড্রেজার চালু হওয়া উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বারবার অভিযান চালানোর পরও কেন অবৈধ মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের প্রশ্ন, সাময়িক অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও যদি একই কার্যক্রম চলতে থাকে, তাহলে কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে?

তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা অবৈধ ড্রেজারচক্রের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও প্রয়োজন।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা জানান, কৃষিজমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। লিখিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, অবৈধ ড্রেজার পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেবিদ্বারের অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।