
রাণীনগর উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক স্থান কাশিমপুর রাজবাড়ি। দখল দূষন আর যত্রতত্র বসতবাড়ি গড়ে উঠায় সময়ের বিবর্তনে রাষ্টীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই জমিদার বাড়িটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে প্রান্তে। ধ্বংসাবশেষ বাকি চিহ্নটুকু মঙ্গলবার ভোর রাতে ভেঙ্গে পড়েছে এমনটাই জানান স্থানীয়রা।
জানা গেছে, খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজবাড়ি এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে। যতটুকু দাঁড়িয়ে আছে অতীব ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বসাধারণ ওই এলাকায় যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেই জন্য বিপদজনক স্থান ইঙ্গিত করে লাল সাইনবোর্ড ঝুলানোসহ তারকাঁটা বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। তাছাড়া বড় বড় লোহার এ্যাঙ্গেলগুলো কেউ যেন চুরি করতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজবাড়ির জমির একটি অংশ কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তাদের নজরদারির অভাবে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এখন যে যেভাবে পারে জবরদখল করে নিয়েছে। এযেন মগের মুল্লুক! কেউ আবার গরু রাখার গোয়াল ঘর হিসেবে ব্যবহার করছে। সব মিলে ঐতিহাসিক স্থানটি এখন দিন দিন বিরান ভূমি আর দখল দারিত্বের রাজ্যে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে সরকারি এই বিশাল সম্পত্তি রক্ষায় কার্যকরি ভূমিকা নিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করে একটি মিনি পর্যটন কেদ্র গড়ে তোলা সম্ভব।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলামিটার পশ্চিমে নওগাঁ ছোট যমুনা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই কাশিমপুর রাজবাড়ি। এই রাজ পরিবারের অনেক সদস্যই কিছুটা মেজাজি হওয়ার কারণে রাজত্ব চলাকালিন সময় এই বাড়িটিকে পাগলা রাজার বাড়ি বলে খ্যাতি ছিল। বর্তমানে রাজবাড়ির শেষ অংশটুকু গরুর গোয়াল ঘর হিসেবে ব্যবহার করায় শেষ চিহ্নটুকু ভেঙ্গে পড়া শুরু করেছে।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর কাশিমপুর রাজবংশের সব সদস্য রাজত্ব ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলে যান। শুধু ছোট রাজা শ্রী শক্তি প্রসন লাহিড়ী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই রাজবাড়িতে বাস করতেন। সময়ের বিবর্তনে পরিস্থিতি বুঝে সবার অজান্তে কাশিমপুর রাজবাড়ির ঘর-দরজা ও অন্যান্য দামী দামী এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অঢেল সম্পদ রেখে সে’ও ভারতে চলে যায়। এই রাজবাড়িটির শুধুমাত্র আবাসিক এড়িয়াই ছিল ২ একর ১৯ শতক। এই রাজবাড়িটির নিদর্শন সমূহ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সকল কারুকার্য আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে।
উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু জানান, রাজবাড়ির ওই অংশটুকু ভেঙ্গে পড়েছে এমন খবর জানার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। আমি কয়েকবার এই রাজবাড়িটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নিয়েও নানা জটিলতার কারণে সামনে এগুতে পারিনি। অবৈধ দখলবাজদের কবলে এখন কাশিমপুর রাজবাড়ির বিশাল সম্পত্তি।
উপজলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, স্থানীয়ভাবে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো রক্ষা করা আমাদর সকলের নৈতিক দায়িত্ব। তবে সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর এই সব নির্দশনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব পালন করে থাকে। আমি রাজবাড়ির অবশিষ্ট এই নির্দশনকে রক্ষা করার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। ভেঙ্গেপড়া ঝঁকিপূর্ণ অংশ জনগণ যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিপদ সংকেত লাল সাইনবোর্ড ঝুলানোসহ তারকাঁটা দিয়ে বেড়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর লোহার অ্যাঙ্গেলগুলো যাতে চুরি না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :