সাতক্ষীরায় নদীকৃত্য দিবস পালিত দখল-দূষণমুক্ত জীবন্ত নদীর দাবি | Daily AjKaler Kontho

সাতক্ষীরায় নদীকৃত্য দিবস পালিত দখল-দূষণমুক্ত জীবন্ত নদীর দাবি


মোঃ আতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরায় নদীকৃত্য দিবস পালিত দখল-দূষণমুক্ত জীবন্ত নদীর দাবি

“নদী বাঁচাও—প্রকৃতি ও মানুষ বাঁচাও” এবং “দখল-দূষণমুক্ত প্রবাহমান জীবন্ত নদী চাই”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে দিবসটি উপলক্ষে এক সুধি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্নয়ন সংগঠন এএলআরডি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বেলা, স্বদেশ, হেড, সামস, সিডো, সুশীলন, উত্তরণ, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, অর্জন ফাউন্ডেশন, ক্রিসেন্ট, নবদিগন্ত ফাউন্ডেশন, সৃজনী মহিলা লোক কেন্দ্র, আশা লোককেন্দ্র, উদ্দীপ্ত মহিলা সংস্থা, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এবং সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যৌথ আয়োজনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন বাপা সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক ও ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত। অনুষ্ঠানে লিখিত ধারণা পত্র পাঠ করা হয়। সভায় অতিথি ও মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, বন কর্মকর্তা আও সফর রহমান, শিক্ষাবিদ কৃষ্ণপদ সরকার, প্রফেসর ইদ্রিস আলী এবং পরিবেশ কর্মকর্তা আশরাফ আলী। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আবু জাফর সিদ্দিকী, বজলুর রহমান, আব্দুস সামাদ, মফিজুল ইসলাম, যুব নেতা আব্দুর রহমান, আনিস নূর খান বাবুল প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নদী একটি দেশের ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, ইছামতি, কালিন্দী, কাকশিয়ালী ও রায়মঙ্গলসহ বহু নদ-নদী প্রবহমান। কিন্তু অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, পলি জমা, দখল, দূষণ, তীব্র জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে এসব নদী ও জলপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য সম্পদ ও সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সভায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ৮ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়: নদী ও খালকে অতিদ্রুত দখলমুক্ত করা। নদী ও জলপ্রবাহকে দূষণমুক্ত রাখা। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা। জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। নদী, খাল ও জলাভূমির পরিবেশগত ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নদীকেন্দ্রিক অভিযোজন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নদী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জোরদার করা।

অতিথি বক্তারা বলেন, “সাতক্ষীরার নদী শুধু একটি জলপ্রবাহ নয়, এটি এ অঞ্চলের প্রকৃতি ও মানচিত্রের প্রাণস্পন্দন। নদীকে বাঁচানোর অর্থ তার তীর, সংযোগ খাল, জীববৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর মানুষের জীবনকে রক্ষা করা। দখল ও দূষণমুক্ত জীবন্ত নদী নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গবেষক ও তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সাতক্ষীরার নদী বাঁচলে, বোন পরিবেশ প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচবে, বাঁচবে সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ।

আজকালের কন্ঠ/আর বি