
ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে সংরক্ষণ, আধুনিক নকশা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং স্থানীয় কারুশিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে মৃৎশিল্পীদের একদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সদরের আক্চা ইউনিয়নে অবস্থিত লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের যৌথ আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় উদ্বোধন করেন ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ও কর্মশালা বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ড. মুহম্মাদ শহীদ উজ জামান।
এসময় কর্মশালা বাস্তবায়ন পরিষদের রিসোর্স পার্সন ও বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দ শেখর সাহা, সহকারী রিসোর্স পার্সন আশরাফুল আলম শাওন, সহকারী সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম, প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান রিজভী, উপদেষ্টা চন্দনা ঘোষ, সুজন খান, খোকন দাস, আইনুল হক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় সমতলের পাল সম্প্রদায়ের ৩০ জন মৃৎশিল্পী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় দেশবরেণ্য ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা উপস্থিত থেকে মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে নকশা, পণ্য উন্নয়ন ও আধুনিক চাহিদাভিত্তিক মৃৎপণ্য তৈরির বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ও কর্মশালা বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ড. মুহম্মাদ শহীদ উজ জামান বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, লোক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে মৃৎশিল্পের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। আধুনিকতার প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের অনেক ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি হয়েছে। তাই প্রাচীন ঐতিহ্য ও কারিগরি দক্ষতাকে ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের রুচি ও পর্যটন বাজারের উপযোগী পণ্য তৈরির মাধ্যমে মৃৎশিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্মশালায় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের পাশাপাশি আধুনিক নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য, নান্দনিকতা, ব্যবহারিক উপযোগিতা এবং বাজারজাতকরণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের উৎপাদিত পণ্যকে দেশীয় পর্যটন ও আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলকে কারু শিল্পদের কাজের স্বীকৃতি সনদপত্র প্রদান করেন অতিথিরা।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর দীর্ঘদিন ধরে দেশের লোকজ সংস্কৃতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। মৃৎশিল্প কর্মশালার মাধ্যমে এ কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি লোকায়নকে ঘিরে স্থানীয় ঐতিহ্যনির্ভর ইকো-ট্যুরিজম বিকাশের সম্ভাবনাও আরও জোরালো হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। বর্ষা শেষে শরতের আবহে প্রকৃতি যখন নতুন রূপে সাজে, তখন বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিল হয়ে ওঠে লাল শাপলার অপূর্ব এক রাজ্য।
বিস্তীর্ণ জলাভূমির পানির ওপর সারি সারি লাল শাপলা, সবুজ পাতার ফাঁকে নৌকার চলাচল আর ভোরের নরম আলো—সব মিলিয়ে সাতলা বিল যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
চলতি মৌসুমেও বিলজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য লাল শাপলা। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা।
বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা এলাকায় এই বিলের অবস্থান।
বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকা বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবেই ফুটে ওঠে শাপলা। লাল শাপলার আধিক্যের কারণে স্থানীয়ভাবে এটি পরিচিত ‘শাপলা বিল’ বা ‘লাল শাপলার বিল’ নামে।
সাতলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগের সবচেয়ে ভালো সময় ভোর। সূর্যের আলো তীব্র হওয়ার আগেই শাপলার সৌন্দর্য যেন আরও বেশি ফুটে ওঠে।
তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা আগের রাতে বরিশাল শহরে অবস্থান করে ভোরে সাতলার উদ্দেশে রওনা দিলে খুব সহজেই উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য।
নৌকায় ভেসে লাল শাপলার রাজ্যে
সাতলা বিলে গিয়ে শুধু তীরে দাঁড়িয়ে শাপলা দেখলেই ভ্রমণ শেষ নয়। স্থানীয় ঘাট থেকে ছোট নৌকা ভাড়া করে বিলের ভেতর ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।
নৌকায় বসে চারপাশে যতদূর চোখ যায়, দেখা যায় লাল শাপলা আর সবুজ পাতার সমারোহ।
স্থানীয়ভাবে নৌকা ভাড়া সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে সময়, নৌকার ধরন ও দরদামের ওপর ভাড়া কমবেশি হতে পারে।
ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রথমে যেতে হবে বরিশাল। এরপর বরিশাল শহর থেকে উজিরপুর হয়ে স্থানীয় যানবাহনে পৌঁছানো যায় সাতলা এলাকায়।
ঢাকা থেকে নৌপথেও বরিশাল যাওয়া যায়। রাতের লঞ্চে বরিশাল গিয়ে ভোরে সেখান থেকে সড়কপথে সাতলার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনাও করা যেতে পারে।
ঢাকা থেকে যাওয়া-আসা, স্থানীয় যাতায়াত ও নৌকা ভাড়াসহ জনপ্রতি আনুমানিক ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা বাজেট ধরে রাখা যেতে পারে। তবে খাবার, থাকা ও ব্যক্তিগত খরচ এতে ধরা হয়নি।
সাতলা বিল শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও জলাভূমির পরিবেশের সঙ্গেও জড়িত।
তাই ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট কিংবা কোনো ধরনের বর্জ্য বিলে না ফেলা এবং অকারণে শাপলা না ছেঁড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতনরা।
ভোরের কুয়াশা, শান্ত পানির ওপর ভেসে থাকা লাল শাপলা আর ছোট নৌকার ছলাৎছল শব্দ—সব মিলিয়ে সাতলা বিল হতে পারে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি এক অসাধারণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
শহরের ব্যস্ততা থেকে একদিনের জন্য দূরে গিয়ে গ্রামবাংলার জলাভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে শরৎকালের সাতলা বিল হতে পারে ভ্রমণের আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :