
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছেন, “বাচ্চাকে বাক্সবন্দি না করাই কী অপরাধ? সারা দুনিয়ার সামনে চিৎকার করে বলবো- কোনো মা ঘর থেকে বাচ্চা বের করবেন না। এই দেশ নিরাপদ না।”
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাসায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সঙ্গে আলোচনায় এ কথা বলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্যারেন্টিংকে দায়ী করছেন। প্যারেন্টিংয়ের বিষয়ে অপ্রতিমের মা বলেন, “প্যারেন্টিং কী? এর সাথে, ওর সাথে মিশবা না; সারাক্ষণ বাচ্চাকে এটি শিখানোই কী প্যারান্টিং? আমরা পড়ালেখা করি, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই। আমার বাচ্চা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে বড় হয়েছে। আমার বাচ্চাকে কখনো শিখাইনি যে, একা ভাত খেতে হবে; শিখিয়েছি সবাইকে নিয়ে ভাত খেতে হবে। আমার বাচ্চাকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়তে চাইনি, একটি মুক্ত মানুষ গড়ে তুলতে চেয়েছি। আমার বাচ্চা সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াতে চেয়েছে, উড়োজাহাজে চললেই কী তার অপরাধ হবে? উন্নত বিশ্বে বয়সে ছোট বাচ্চারা কী কিছু করে না? তারা সাপ নিয়ে খেলে। সেটা কী তাদের প্যারেন্টিংয়ের দোষ?”
অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অপ্রতিমের মা বলেন, “অপরাধীরা যখন সংশোধনাগার থেকে বের হবে, তখন কী অন্যের ক্ষতি করবে না? এরা যখন বের হবে, তখন হাজার হাজার মানুষের জীবন রিস্ক হয়ে যাবে। আপনারা সতর্ক হন, আমাদের কেনো সতর্ক হতে হবে? আমার বাচ্চা কেনো ঘর থেকে বের হতে পারবে না? আমার বাচ্চা বন্ধুদের সাথে ম্যাজিক প্যারাডাইসে ঘুরলে, আমার বাচ্চার দোষ হবে কেনো? কেনো আপনাদের দোষ হবে না? আমার বাচ্চার জন্য কেনো ওই পরিবেশ দিচ্ছেন না যে, আমার বাচ্চা যেখানে সেখানে ঘুরতে পারবে; আমার বাচ্চা যেকোনো মানুষের সাথে মিশতে পারবে।”
অপ্রতিমকে নিয়ে তার মা বলেন, “আমার বাচ্চা একশোটা প্রোগ্রাম করেছে? আমার বাচ্চাকে এক বছর নাচ শিখিয়েছি। আমার ছেলে হীরা-গহনা নিয়ে বাইরে যাবে। সে উড়োজাহাজ নিয়ে যাবে, সে আমার ঘরের সব জিনিস নিয়ে বাইরে যাবে- তাই বলে তাকে কেড়ে নিয়ে মেরে ফেলতে হবে?”
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পুরোনো মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার বিষয়টি একটি সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, “আমি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছি। ওই অভিযানে একটি গ্যাংয়ের সদস্যদেরকে মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করি। সেটা যদি আমার দোষ হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে দোষ দেন। আমার ছেলেকে কেনো ভিক্টিম করা হচ্ছে? আমার দুধের শিশুকে ব্লেইম করা আমি কোনোদিন মেনে নিব না।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকোট মো: কাইমুল হক রিংকু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :