আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের নেতৃত্বে শাট ডাউনে ববি, স্থবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম | Daily AjKaler Kontho

আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের নেতৃত্বে শাট ডাউনে ববি, স্থবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম


আব্দুল্লাহ আল মামুন, ববি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ন
আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের নেতৃত্বে শাট ডাউনে ববি, স্থবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম

শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) তে চলছে একাডেমিক শাট ডাউন। দীর্ঘদিন একাডেমিক শাট ডাউনের কারনে স্থবির হয়ে পড়েছে ববির একাডেমিক কার্যক্রম। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চাপ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করেছেন বলে ভিডিও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে।যার কারনে একাডেমিক কার্যক্রম এর পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে ববির প্রশাসনিক কার্যক্রমও।

‎আন্দোলনের কার্যক্রম এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যারা শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে শাটডাউন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থবির অবস্থায় নিয়ে এসেছেন তারা বেশির ভাগই বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।

‎২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। যখন সারা দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে, তখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের এক দীর্ঘ অনলাইন (জুম) মিটিং করেন। সেখানে তারা আলোচনা ও পরিকল্পনা করেন কিভাবে ছাত্রদের আন্দোলন থেকে সরানো যায়। সেই মিটিংয়ের ফাঁস হওয়া বক্তব্য থেকে জানা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ঘৃণা’ জানানো এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশই ছিল তাদের মূল এজেন্ডা।

‎প্রকাশিত ভিডিও তে দেখা যায়,তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবদুল বাতেন চৌধুরী সেই সভায় বলেছিলেন, “শিক্ষার্থীদের ঘোষিত এক দফার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমি এই আন্দোলনে যারা নেমেছে তাদের ঘৃণা করি। আমরা সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগকৃত এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আজ আমাদের সময় এসেছে শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়ানোর।”

‎মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের ওপরে ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন তৎকালীন প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে এই ড. আবদুল কাইউম।তিনি বলেছিলেন, আন্দোলনের নামে সরকার হঠানোর পরিকল্পনাকে তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি আন্দোলনকারীরা তার নিজের শিক্ষার্থী হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

‎লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইসরাত জাহান লিজা বলেছিলেন, “কোনোভাবেই আমরা এক দফার সাথে একমত নই। শেখ হাসিনাই আমাদের একমাত্র ভরসা। আমি মনে করি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কেউ নেই যে এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করবে।

‎এ ছাড়াও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষেও অনেক শিক্ষককে জনসংযোগে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছিলো বলে অভিযোগ ও কিছু তথ্য প্রমান প্রতিনিধির হাতে এসেছে।

‎তথ্য প্রমানে দেখা যায় ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত এর পক্ষে নির্বাচনের প্রচার কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বর্তমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্যে অন্যতম ববি সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল বাতেন চৌধুরী।

‎এ ছাড়াও উক্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে নাম রয়েছে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড.মো.আব্দুল কাইউম।মোহাম্মদ তানভির কায়সার,সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ।ড.মো.সাখাওয়াত হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক, গনিত বিভাগ।ড.হেনা রানী বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক, গনিত বিভাগ। ড.ইসরাত জাহান,সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রশাসন বিভাগ।ইয়াসিফ আহম্মেদ ফয়সাল,সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ।

‎উল্লেখ্য মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক আব্দুল কাইউমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী হুমকি ধামকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষাজীবনের উপর হস্তক্ষেপ, সিজিপিএ কমিয়ে দেওয়া, ইত্যাদি হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ এসেছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি