রায়পুরে পাউবোর জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

রায়পুরে পাউবোর জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ন
রায়পুরে পাউবোর জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ডাকাতিয়া নদীর খালপাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ৪৫ শতাংশ সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। লীজ নেওয়া এই জমি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানায় খতিয়ানভুক্ত করে একাধিকবার বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পাউবো।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মধুপুর মৌজায় মহিলা কলেজ সংলগ্ন ২৬৬ নম্বর দাগের জমিটি এলএ নথি নম্বর ৩০/১৯৯৫-৯৬ অনুযায়ী অধিগ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় আলী আজম চৌধুরী ও আশ্বাদ মিয়া জমিটি লীজ নেন।

অভিযোগ রয়েছে, লীজগ্রহীতারা পরে গোপনে ওই সরকারি জমি ব্যবসায়ী হাফিজ উল্লাহ, মোহাম্মদ উল্লাহ ও আমিন উল্লাহর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জমিটি আরও কয়েকজনের কাছে হাতবদল হয়। বর্তমান মালিকরা সেখানে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন।

পাউবোর দাবি, রায়পুর শহরের হানিমুন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি ভূমি ও সেটেলমেন্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি নিজেদের নামে খতিয়ানভুক্ত করেন।

তিন মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়। তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযোগের বিষয়ে বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমরা আলী আজম ও আশ্বাদ মিয়ার কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। বর্তমানে সেখানে ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছি। এটি আমাদের কেনা সম্পত্তি।”

রায়পুর সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার হুমায়ুন কবির গাজী বলেন, বর্তমানে তিনি নোয়াখালী অফিসে কর্মরত। মধুপুর মৌজার ওই ৪৫ শতাংশ জমি কীভাবে ছয় ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়েছে, তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তৎকালীন কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন, “পাউবোর জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড হওয়ার ঘটনায় ভূমি ও সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তারা এখনো কোনো জবাব দেয়নি। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি