ভোলায় তেলের তীব্র সংকট, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন | Daily AjKaler Kontho

ভোলায় তেলের তীব্র সংকট, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন


মোঃ শেখ ফরিদ, ভোলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৫, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ন
ভোলায় তেলের তীব্র সংকট, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

ভোলায় হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভোলা সদর উপজেলায় ২টি ফিলিং স্টেশন এ রহমান সন্স এবং মাশা- আল্লাহ ফিলিং স্টেশন সাথে আছে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ। মানুষের যে পরিমাণ চাহিদা সে-ই পরিমান চাহিদা পূরণে তাদের সেই পরিমান মজুদ তারা কাবার দিতে পারছেনা।

৩০০ টাকার তেলের জন্য ৫-৬ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। এমন অপেক্ষা বুঝতে আর বাকি থাকেনা সত্যি তেলের সংকট।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পরিবহন খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। তেল সংকটের কারণে অনেক বাস, ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল কমে গেছে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক বিঘ্ন।

শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ডিজেল সংকটের কারণে ছোট-বড় অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। সেচযন্ত্র চালাতে না পারায় জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জনজীবনে আরও ভয়াবহ প্রভাব পড়বে

এইদিকে ‎শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলার খেয়াঘাট সড়কে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে নিজ কারখানার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিল ও জেকে ট্রেডার্সের মালিক মো. জামাল উদ্দিন খান।

‎তিনি জানান, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মজুদ থাকা সব ডিজেল শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের জ্বালানি মজুদ নেই। জামাল উদ্দিন খান বলেন, “আমাদের নিকটবর্তী নদীঘাট থেকে গুদামে গম পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন চালাতে ডিজেল দরকার, কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে উৎপাদিত ময়দা, ভূষি ও মুড়ি ভোলার দক্ষিণ আইচা থেকে ইলিশা ফেরিঘাটসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

‎তিনি আরও বলেন, “আজ থেকেই যদি ডিজেল সরবরাহ না পাই, তাহলে চরফ্যাশন, লালমোহনসহ বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাবে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে এবং বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করতে হতে পারে।”

‎সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিয়েও ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিল্প প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

‎এসময় প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আজকালের কন্ঠ/আর বি