
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার হোসেনপুর দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চরম বিশৃঙ্খলা ও দায়িত্বহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিষ্ঠান ছুটি দিয়ে শিক্ষকদের চলে যাওয়া এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে হোসেনপুর দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকার কথা থাকলেও দুপুর ২টা বাজতেই পুরো মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষ এবং অফিস কক্ষে ঝুলছে বড় বড় তালা। দিনের আলোতেই একটি সচল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন এক ‘পরিত্যক্ত’ ভূতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কঠোর বিধান থাকলেও, ওই সময়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কোনো পতাকা দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পতাকা উত্তোলন না করা এই প্রতিষ্ঠানে একটি নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা জাতীয় পতাকার প্রতি চরম অবমাননা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এনামুল হক সরকার-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ করেন। প্রতিষ্ঠানের এই নাজুক অবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বরং ‘আমি এখন তেল নিতে এসেছি’—এমন অদ্ভুত অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষা প্রধানের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খানসামা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহজাহান সরকার দিয়ে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে নামকাওয়াস্তে চলছে এই দপ্তর। পূর্ণাঙ্গ কোনো কর্মকর্তা না থাকায় তদারকির অভাবে গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় সই করেই গা-ঢাকা দিচ্ছে
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন চিত্র সরাসরি সরকারের শিক্ষানীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নামান্তর। হোসেনপুর দাখিল মাদ্রাসার এই অব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননার বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :