গৌরনদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণ ও রান্নাবান্নার অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

গৌরনদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণ ও রান্নাবান্নার অভিযোগ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুলাই ১৭, ২০২৫, ৬:১৮ অপরাহ্ন
গৌরনদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণ ও রান্নাবান্নার অভিযোগ

এ,এস,মামুন, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৫ নং কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণ এবং নির্মাণশ্রমিকদের থাকার জায়গা বানানোর অভিযোগ উঠেছে তানিম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এমনকি বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাটির চুলা তৈরি করে রান্নার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কাজ শুরুর পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ, মাঠ এবং একটি শ্রেণিকক্ষে ইট, বালু, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হচ্ছে।

‎বিদ্যালয়ের দাতা ও এডহক কমিটির সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শ্রেণিকক্ষে নির্মাণসামগ্রী রাখায় ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পুরাতন ভবনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

‎বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, “প্রথমে ২ দিনের অস্থায়ী থাকার অনুমতি চেয়ে শ্রেণিকক্ষে শ্রমিকদের আশ্রয় দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর চার মাস পার হয়ে গেলেও তারা এখনো শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে যায়নি।”

‎এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সৈয়দ সুমন আহমেদ বলেন, “নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে ও মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।”

‎স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ এমদাদ শিকদার বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরুর আগে বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরাসরি শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ দখল করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষ নির্মাণসামগ্রীতে পূর্ণ। মাঠেও কাঠ, বাঁশ, রডসহ নানা মালামাল ফেলে রাখা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে তানিম এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আমি সরকারি কাজ করি। সরকার আমাকে জায়গা দিলে আমি কাজ করব। মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারে উপজেলা প্রকৌশলী ও শিক্ষা অফিসারের মৌখিক অনুমতি রয়েছে।”

‎তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. অহিদুর রহমান জানান, “এ বিষয়ে অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই, আমি কোনো অনুমতি দেইনি।”

‎প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বারবার নিষেধ করার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছে।

‎আগামী রবিবার সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/রাহাত/মামুন