
বায়েজিদ আহমেদ জোনায়েত,ঢাকা কলেজ, প্রতিনিধি : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)- এ ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে সবার মধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভয়হীন ক্যাম্পাস, নিরাপদ, সুষ্ঠু ও সেশনজট মুক্ত স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করুক।
সম্প্রতি কুয়েটে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এলে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে মারধর করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় এর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। পরবর্তীতে মবের সাথে জড়িত কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উক্ত ঘটনাটি ক্যাম্পাসের ভেতরে এবং বাহিরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় উক্ত মব সৃষ্টিকারীদের হাতে কুয়েটের শিক্ষকরাও লাঞ্ছিত হন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শিষ্ঠাচার বহির্ভূত।
এর প্রেক্ষিতে কুয়েট প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে।
এ বিষয় ঢাকা কলেজর শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া তারা দৈনিক আজকাল কন্ঠকে জানান, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানাচ্ছে। একইসাথে প্রত্যাশা করে, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসগুলোতে যে ভয়ের সংস্কৃতি বিরাজ করছিলো মব কালচারের মাধ্যমে যেন সেটির পুনরুত্থান না ঘটে।
আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, সাম্প্রতিক সময়ে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলকে জড়ানো বা ছাত্রদলের ওপর যেকোনোভাবে দায় চাপানোর একটি অসৎ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আমরা তাদের এই হীন অপচেষ্টার নিন্দা জানাই।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা, সম্মান ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহসী অবস্থানকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, কুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান গুটিকয়েক ব্যক্তির রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়; বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার সুরক্ষার স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছে।আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল কুয়েটের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রত্যাশা করে, প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কুয়েটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্মান ও স্নেহের সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতি আন্তরিক থাকবেন। সেই সাথে যেসকল শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেটিকে পুনর্বিবেচনা করবেন বলেও আমরা প্রত্যাশা রাখি।
আপনার মতামত লিখুন :