
খান মেহেদী :- ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বাকেরগঞ্জে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তার ওপর গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে দু’দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের ভেরি বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পানিতে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেকের কাঁচা মেঝের ঘর ধসে পড়েছে। এছাড়া অনেকের ঘরের ওপর গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলায় প্রায় তিন শাতাধিক আধাপাকা ও কাঠের ঘর ঝড়ো হওয়া ও গাছ পড়ে ভেঙ্গে গেছে। এই উপজেলার সকল মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
বন্যার পানিতে সবজি ক্ষেত প্লাবিত হয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে সাধারণ কৃষকেরা। উঁচু এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও, এখনো নিম্ন এলাকাগুলো রয়েছে পানির নিচে। এছাড়া গত রোববার রাত থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় ভেঙে পড়েছে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয়রা জানায়, বিগত দিনগুলোতে অনেক বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও, এত দীর্ঘমেয়াদী সময় ধরে ঝড় তারা আগে কখনো দেখেননি। এ বছরেই তারা সর্বোচ্চ উচ্চতার বন্যা দেখেছেন। এ দিকে, গত রোববার থেকে বাকেরগঞ্জে ঝড়ের সাথে বৃষ্টি শুরু হয় যা সোমবার রাত পর্যন্ত একটানা চলতে থাকে। ফলে বন্যা বৃষ্টির সাথে ঝড় হওয়ায় দ্রুতই বেড়েছে পানির চাপ।
উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরসহ ১৪ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাটের উপর গাছ উপরে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাড়ি ভিটে সহ সড়কের দুই পেশার গাছ বৈদ্যুতিক তারের উপর পড়ে খুঁটি ভেঙ্গে গিয়েছে।
বাকেরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোবিন্দ চন্দ্র দাস জানান, পুরো উপজেলায় প্রায় শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি গাছ পড়ে ভেঙ্গে গেছে। এতে ব্যাপক পরিমাণে বিদ্যুতের তার ছিড়ে রয়েছে। উপজেলা শহরে দুই একদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ দিতে পারলেও পুরো উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগে যাবে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ো হাওয়া ও গাছ উপরে পড়ে অনেক বাড়িঘর ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :