আলীকদমে ইউএনওর স্বাভাবিক ঘটনাকে ইস্যূ করছে একটি মহল। | Daily AjKaler Kontho

আলীকদমে ইউএনওর স্বাভাবিক ঘটনাকে ইস্যূ করছে একটি মহল।


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ৩:৪২ অপরাহ্ন
আলীকদমে ইউএনওর স্বাভাবিক ঘটনাকে ইস্যূ করছে একটি মহল।

মোঃ জয়নাল আবেদীন আলীকদম (বান্দরবান) : বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ট্রফি ছুড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে একটি মহল। শুক্রবার বিকা‌লে আলীকদম ২নং চৈক্ষ্যং ইউ‌নিয়‌নের চৈক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যাল‌য় মা‌ঠে আবাসিক যুব স্বাধীন সমাজের উদ্যোগে ফুটবল টুনামেন্ট অনু‌ষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে খেলোয়াড়দের দুইপক্ষের ঝগড়াকে শান্ত করতে ও বুঝাতে উদারণ দেখাতে খেলোয়াড়দের অনুমতি সাপেক্ষে ট্রফি টেবিলে ছড়ে মারেন ইউএনও।কিন্তু পুরো ঘটনার আংশিক ভিডিও প্রকাশ করে ইউএনওর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে একটি মহল।

২৩সেপ্টেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফুটবল টুনামেন্টের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহরুবা ইসলাম।

ফুটবল টুনামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, ফুটবল খেলা আবাসিক একাদশ ও রেপারপাড়া একাদশ দুইটিমেই দুই গোলে ড্র করে। পরে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। আবাসিক একাদশ চারটি মধ্যে তিনটি গোল করেছে আর রেপারপাড়া একাদশ তিনটি টাইব্রেকারে একটি গোলও করতে পারেনি। এর ইমধ্যে আবাসিককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

তারা আরো বলেন, মঞ্চে অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য দেওয়ার পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরুর আগে হট্টগোল বাধে দুই টিমের মধ্যে, রেপারপাড়া একাদশ খেলার ফলাফল মানতে নারাজ। কথা বুঝানোর চেষ্টা করেও কোন ভাবে মানাতে পারছে না। খেলোয়াড়রা ইউএনওকে ট্রফি কাউকে না দিয়ে ভেঙে ফেলতে বলেন। ট্রফি ছুড়ে ফেলার পর কোন খেলোয়াড় ও পরিচালনা কমিটি কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সবাই মেডেল গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠান শেষ করে সবাই চলে গেছে।

তারা আরও বলেন, চৈক্ষ্যং এলাকায় এবিষয়ে কোন সমস্যা হচ্ছে না। যা সমস্যা হচ্ছে একটি মহলের তিলকে তাল করছে। ট্রফি ছুড়ে ফেলার পরও কেউ তো চলে আসেনি। সম্মাননা গ্রহণ করেছে। আমরা তো কাউকে বিচার দেয়নি। কেন এগুলো হচ্ছে বুঝতেছি না।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন,গতকাল থেকে এই ঘটনায় তিলকে তাল করছে গরু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কারনে এই ঘটনাকে ইস্যূ তৈরী করছে।

চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য আয়েশা বেগম বলেন,ঘটনার আংশিক প্রচার হচ্ছে। দুই পক্ষ বাড়াবাড়ি করায় তাদের শান্ত করে ও তাদের অনুমতিতে ট্রপি টেবিলের উপর ছুড়ে মেরেছেন। এটি বুঝানোর জন্য যে ট্রফি ছুড়ে ফেলেছে। খেলোয়াড়রা টাকাও নিয়েছে।

২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন,পুরো ঘটনায় আমি উপস্থিত ছিলাম। খেলোয়াড়রা ট্রফি নিতে চাইচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ইউএনও মহোদয় ট্রফি তার কাছে রেখে খেলা আবার খেলতে বলেছে। দ্বিতীয়বার খেলার সব খরচ স্যার বহন করবে বলেছে। কিন্তু ছেলেরা না মানায় তারাই বলছে ট্রফি ছাড়া আমরা এমনতেই খেলব। ট্রফি ছুড়ে ফেলার পরও কোন প্রক্রিয়া দেখায়নি। সবাই পুরষ্কার গ্রহণ করছে। কিন্তুু একটি মহল সদরে ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুবা ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, খেলা শেষে হওয়ার পর থেকে হট্টগোল চলছিল। কিছু টা শান্ত হয়ে পুরস্কার বিতরণের মঞ্চে হঠাৎ এসে বললেন যে, তিন গোল চার গোল তারা মানে না। আবার টাইব্রেকার দিতে হবে আবাসিক একাদশ তা মানতে নারাজ।এনিয়ে ঝগড়া লেগে যায় দুই পক্ষের মধ্যে। শান্ত করতে দীর্ঘ সময় কথা বলেছি। তাদের বুঝাতে তাদের সম্মতিতে এইটি ভাঙা হয়েছে। ট্রফি ভাঙ্গার পরও খেলোয়াড়রা মেডেল গ্রহণ করেছে। ট্রফি ছুড়ে ফেলার পরও আরও অনেক কথা বলেছি কই সেই ভিডিও কেউ প্রকাশ করেনি। কিন্তু পুরো ভিডিও বাদ দিয়ে আংশিক ভিডিও প্রচার করছে একটি মহল।

আংশিক ভিডিও প্রকাশের কারণ কি এমন প্রশ্নের উত্তরের বলেন,আমি সরকারি কাজ করতে এসেছি ও সরকারি দায়িত্ব পালন করছি সেটি অনেকের সহ্য হচ্ছে না। সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে গরু আসছে টাস্কফোর্স তা আটক করছে। উক্ত টার্সফোর্সের আমিও একজন। উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ হচ্ছে তাও মানতে পারছে না একটি মহল। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু চত্বর করায় একাংশ আমার উপর ক্ষেপে আছে।

আজকালের কন্ঠ /রাকিব