যে ভুলগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে | Daily AjKaler Kontho

যে ভুলগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে


লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ন
যে ভুলগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

অক্টোবর মাস বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। এ মাসে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ, প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের মূল প্রতিপাদ্য—‘প্রতিটি গল্পই অনন্য, প্রতিটি পথচলাই গুরুত্বপূর্ণ’।

নারীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রসাধনী ও সৌন্দর্যপণ্যের ব্যবহার খুবই সাধারণ। তবে এসব পণ্য কেনা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসচেতনতা থেকে ত্বক ও শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা থাকে। কিছু রাসায়নিক শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তাই প্রসাধনী ব্যবহারে সচেতন হওয়া জরুরি।

প্রসাধনী বাছাই ও ব্যবহারে যে ভুলগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে-

চুলের প্রসাধনীতেও নজর দিন

চুলে রং করা বা চুল সোজা করার বিভিন্ন পণ্যে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদানের কিছু শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

তাই নিয়মিত চুলে রং বা চুল সোজা করার পণ্য ব্যবহার করলে পণ্যের উপাদান সম্পর্কে জানা এবং অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য পণ্য বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিম্নমানের লিপস্টিকেও ঝুঁকি

দাম কম হওয়ায় অনেকেই নিম্নমানের লিপস্টিক কিনে ব্যবহার করেন। কিন্তু কিছু নিম্নমানের প্রসাধনীতে সিসা বা অন্যান্য ভারী ধাতু থাকার আশঙ্কা থাকে। এসব উপাদানের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই লিপস্টিক বা ঠোঁটে ব্যবহারের অন্য কোনো প্রসাধনী কেনার সময় পরিচিত ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের পণ্য বেছে নেওয়া ভালো।

নখের রং ও বগলের প্রসাধনীতেও সতর্কতা

নখে ব্যবহারের রঙে থ্যালেটসের মতো রাসায়নিক থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় এ ধরনের রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বগলে ব্যবহারের ঘামরোধী প্রসাধনীতে অ্যালুমিনিয়ামের লবণ থাকতে পারে। এসব উপাদান নিয়ে স্তন ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কের নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। তাই অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো।

প্রসাধনী কেনার সময় যা দেখবেন

যেকোনো প্রসাধনী কেনার আগে পণ্যের গায়ে থাকা উপাদানের তালিকা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। পণ্যে প্যারাবেন বা থ্যালেটস রয়েছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে।

প্রসাধনী বাছাই ও ব্যবহারে যে ভুলগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত পণ্যও এড়িয়ে চলা ভালো। কোনো পণ্যের উপাদানের তালিকায় শুধু সুগন্ধি বা সুগন্ধি তৈরির উপাদানের উল্লেখ থাকলে তা সম্পর্কে বাড়তি তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুমোদিত ও পরিচিত প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনা। কম দাম বা দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অনুমোদনহীন রং ফরসাকারী ক্রিম কিংবা অপরিচিত প্রসাধনী ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

ক্যানসারে আক্রান্ত হলে প্রসাধনী ব্যবহারে আরও সতর্কতা

ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি বা চিকিৎসার কারণে যাদের ত্বক ও চুলের সমস্যা হয়েছে, তাদের প্রসাধনী ব্যবহারে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ সময় ত্বক ও চুলে কড়া রাসায়নিকযুক্ত পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো।

প্রাকৃতিক বা ভেষজ লেখা থাকলেই কোনো পণ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বাজারের অনেক তথাকথিত ভেষজ পণ্যেও বিভিন্ন রাসায়নিক ও সুগন্ধি থাকতে পারে। তাই পণ্যের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

শ্যাম্পু ও চুলের পণ্য বাছাইয়ে সতর্কতা

ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য শ্যাম্পু কেনার সময় কোমল উপাদানের পণ্য বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্যারাবেন, সালফেট বা সিলিকনমুক্ত পণ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চুলের রং ফিরিয়ে আনার দাবি করে এমন শ্যাম্পু কিংবা চুলে রং করার শ্যাম্পু এ সময় ব্যবহার না করাই ভালো। তবে কোন পণ্য ব্যবহার করা যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা সবচেয়ে নিরাপদ।

ত্বকে কী ব্যবহার করবেন

ক্যানসারের চিকিৎসা ও ওষুধের কারণে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে কোমল উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। টক দই, মধু, ওটস বা ওটের দুধ দিয়ে তৈরি প্যাক ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রসাধনী বাছাই ও ব্যবহারে যে ভুলগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

তবে অ্যালোভেরার রস, লেবুর রস বা টমেটোর রসের মতো ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এমন উপাদান এ সময় এড়িয়ে চলা ভালো। কোনো পণ্য বা উপাদান ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অস্বস্তি হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

চুলের যত্নে সরলতাই ভালো

ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালে চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। চুল পরিষ্কার ও জটমুক্ত রাখার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

এ সময় চুলে বিভিন্ন ধরনের ভেষজ প্যাক বা মেহেদি ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কেউ কেউ শিশুর জন্য তৈরি শ্যাম্পু ও সাবান ব্যবহার করেন। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বক ও চুলের জন্য এসব পণ্য সবসময় উপযোগী নাও হতে পারে।
তাই সম্ভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ত্বক ও চুলের জন্য নিরাপদ পণ্য বেছে নেওয়া উচিত।

চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালে ত্বক ও চুলের যত্নের বিষয়টি রোগের ধরন, চিকিৎসা ও ওষুধের ওপর নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে রোগের জটিল পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছায় কোনো প্রসাধনী বা ত্বকের পরিচর্যার পণ্য ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রসাধনী পুরোপুরি বাদ দেওয়াই ক্যানসার প্রতিরোধের একমাত্র উপায়—এমন নয়। তবে অনুমোদিত পণ্য বেছে নেওয়া, উপাদানের তালিকা যাচাই করা, অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং অজানা বা নিম্নমানের পণ্য থেকে দূরে থাকলে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আজকালের কন্ঠ/আর এস