
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতির জন্য বিদ্যমান জব কর্নারকে সম্প্রসারিত করে সম্প্রতি জব কর্নার-২ চালু করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জব কর্নার উদ্বোধন করার পর শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই জব কর্নারটি চালু করা হয়। নতুন ও সম্প্রসারিত এই পড়াশোনার জায়গা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি দেখা গেলেও, আসন সংকট দূরীকরণ, মানসম্মত পরিবেশ, সময় বৃদ্ধি ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিতে আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।
নতুন জব কর্নারের সুবিধা ও প্রত্যাশা নিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি বলেন, “ক্যাম্পাসে এমন একটি জব কর্নার আমাদের দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীর তুলনায় এখানে আসন সংখ্যা বেশ কম। তাই আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট খুবই প্রয়োজন।”
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো: রফিকুল ইসলাম রফিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “গ্রন্থাগারের এই উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে পড়াশোনার জন্য একটি নিরিবিলি ও আরামদায়ক পরিবেশ খুব জরুরি। জব কর্নারটিতে পর্যাপ্ত ফ্যান ও সম্ভব হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের (এসি) ব্যবস্থা করা হলে দীর্ঘক্ষণ বসে পড়াশোনা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, “জব কর্নারটি চালু হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। তবে আমাদের দাবি থাকবে, এটি খোলা রাখার সময়সীমা যেন আরও বাড়ানো হয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও যদি এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা থাকে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবে।”
শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও জব কর্নারের সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক খোন্দকার আবদুল মজিদ বলেন, “যেহেতু আমিও ইবিয়ান তাই আমি শিক্ষার্থীদের বিষয়টা বুঝি। দায়িত্বে যেহেতু আছি, কিছু কাজ শিক্ষার্থীদের জন্য করতে চাই। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় যে ছাত্ররা মোবাইলে আসক্ত না হয়ে পড়ায় মনোযোগী হয়েছেন কিন্তু পরিমাণ মতো জায়গা পায় না। তখন থেকেই আমি জব কর্নার সম্প্রসারনের বিষয়টি ভিসি স্যারকে জানায় এবং তিনি খুব তাড়াতাড়ি আমাকে পদক্ষেপ নিতে বলেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতির সুবিধার্থেই আমরা এই জব কর্নার-২ চালু করেছি। তাদের আসন সংকট ও অন্যান্য সুবিধার চাহিদার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যেই আমি সম্পূর্ণ গ্রন্থাগারে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের জন্য প্রায় লক্ষাধিক টাকার বাজেট খসড়া করেছি যা প্রক্রিয়াধীন আছে এবং দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে আশা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে এখানে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বই সরবরাহ এবং আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :