
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা ও লবণাক্ততার ঝুঁকিতে থাকা নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার ৪৫০ নারীকে দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে,পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সহায়তায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গত ২৪ আগস্ট থেকে নোয়াখালী সদর, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোতে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ জন করে মোট ৪৫০ নারী প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
‘দুর্জয়ী’ মডিউলের আওতায় পরিচালিত এসব প্রশিক্ষণ সেশনে দুর্যোগের সময় নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।
এ ছাড়া দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি সহায়তা পাওয়ার উপায় সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নারীদের জীবিকা ও আয় বাড়াতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পুষ্টিবাগান, হাঁস-মুরগি ও মাছ চাষ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন আয়বর্ধক উদ্যোগ নিয়েও প্রশিক্ষণে আলোচনা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারী নারীরা তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়াদান কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
প্রশিক্ষণ সেশনগুলোতে বিষয়ভিত্তিক রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রানের ডব্লিউএলসিসি ম্যানেজার শামীমা আক্তার অর্না, স্কিল বিল্ডিং ট্রেইনার শাহিনুর আক্তার, এমএইচপিএসএস ও জিবিভি কেস ওয়ার্কার সুমাইয়া আক্তার ও সিনথিয়া শর্নীল, মিডওয়াইফ জুঁই আক্তার এবং স্বেচ্ছাসেবক আয়েশা আক্তার।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :