তোষামোদ নয়, বরং যোগ্যতার গুরুত্ব বুঝতেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: সাবেক রাবি ভিসি | Daily AjKaler Kontho

তোষামোদ নয়, বরং যোগ্যতার গুরুত্ব বুঝতেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: সাবেক রাবি ভিসি


ইবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ন
তোষামোদ নয়, বরং যোগ্যতার গুরুত্ব বুঝতেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: সাবেক রাবি ভিসি

কেবল দলীয় লোক বসিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। সহজ কথা হলো, যোগ্য স্থানে যোগ্য ব্যক্তিকে বসাতে হবে। এই কাজটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জানতেন। তিনি এমন একজন রাষ্ট্রনেতা ছিলেন, যিনি যোগ্যতার গুরুত্ব বুঝতেন। যে যে কাজ পারে না, সে আপনার যতই তোষামোদ করুক না কেন, তাকে দিয়ে রাষ্ট্র উদ্ধার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গণন হরকরা গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন গ্রীণ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে ‘চব্বিশের জুলাই: জন-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় রাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন,” যখন ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেন, তখন কার কোথায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, সেই আলাপ আর প্রাসঙ্গিক নয়। যারা আইন ভালো বোঝেন, সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ পর্যায়ে যারা আছেন, আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। আপনারা যখন একবার সংস্কারের পক্ষে রাজি হয়েছেন এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন এর বিরুদ্ধে যেকোনো বক্তব্যই কেবল বাজে অজুহাত। আপনারা নিজেদের স্বার্থে এগুলোর দায় কেন নিচ্ছেন? এই সংস্কার যদি আপনাদের হাত দিয়ে হয়, তবে আপনারা যে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করবেন, এর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তার চেয়ে শতভাগ বেশি রাজনৈতিক সুবিধা হারাবেন। আপনারা রাষ্ট্রের কল্যাণ কতটুকু বোঝেন তা আমি জানি না, তবে নিজেদের ভালো তো নিশ্চয়ই বোঝেন। নিজেদের ভালো বুঝলে আল্লাহর ওয়াস্তে সংস্কারের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেবেন না। রাজনীতির ভেতরে কী হিসাব-নিকাশ আছে তা আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে আসে না, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত।”

তিনি আরো বলেন, “আপনাদের মনে আছে কিনা, স্বৈরাচারী শাসকের একজন বড় নেতা প্রায়ই বলতেন, গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতন হলে লাখো মানুষের রক্তের কোনো হিসাব থাকবে না। এটি তাদেরই অনুমান ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই সহিংস পথে হাঁটেনি। যতটুকু সংঘাত ঘটেছে, তা আমাদের কাম্য ছিল না; কিন্তু এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু ঘটতে পারত। এই বাস্তবতা আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন। অনেকেই বলছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। এখনো যে অবস্থা খুব ভালো, তা নয়। এর কারণ কী? কারণ হলো, ১৬ বছর ধরে একটি দানবীয় শক্তি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। সেই প্রশাসন নিয়ে রাতারাতি সফল হওয়া সম্ভব নয়। এক স্তর সরিয়ে দিলেও নিচের স্তরে তাদেরই লোক থেকে যায়। কাজেই চ্যালেঞ্জটা অনেক বড় এবং এই সরকারকে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আশা করি সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল দলীয় লোক বসিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। সহজ কথা হলো, যোগ্য স্থানে যোগ্য ব্যক্তিকে বসাতে হবে। এই কাজটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জানতেন। তিনি এমন একজন রাষ্ট্রনেতা ছিলেন, যিনি যোগ্যতার গুরুত্ব বুঝতেন। যে যে কাজ পারে না, সে আপনার যতই তোষামোদ করুক না কেন, তাকে দিয়ে রাষ্ট্র উদ্ধার করা যাবে না। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তাদের প্রতি আহ্বান আপনারা এই বিষয়ে সচেতন হোন।”

এসময় সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ্জ হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এসময় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।

আজকালের কন্ঠ/আর বি