ইবিতে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি, তদন্তে কমিটি গঠন | Daily AjKaler Kontho

ইবিতে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি, তদন্তে কমিটি গঠন


ইবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ন
ইবিতে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি, তদন্তে কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগে প্রতারণামূলকভাবে ভর্তিকৃত ছাত্রী শামীমা আকতারের ভর্তি সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা এবং এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এ কমিটি গঠন করেন।

অফিস আদেশে বলা হয়, প্রতারণামূলকভাবে ভর্তিকৃত ছাত্রী শামীমা আকতারের ভর্তি-সংক্রান্ত সকল তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

গঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক এবং মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. বদিউজ্জামান।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ” আমি শুনেছি। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ শুরু করে দিব।”

উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতারণার মাধ্যমে এক সেমিস্টার ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শামীমা আক্তার নামে এক ভুয়া শিক্ষার্থী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ভর্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকায় (সর্বশেষ রোল: ২৪১০১০৩) তার নাম বা রোল ছিল না। বিভাগীয় অফিশিয়াল কম্পিউটারে জালিয়াতি করেই তার নাম যুক্ত করা হয়। ১ম সেমিস্টারের রেজাল্ট তৈরির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তার রোল না পাওয়ায় বিষয়টি পরীক্ষা কমিটির নজরে আসে এবং এই জালিয়াতির বিষয় নজরে আসার পর গত ১১ জুলাই জরুরি বৈঠকও হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মূল জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটে এই বিভাগীয় পর্যায়েই। ইংরেজি বিভাগের অফিশিয়াল কম্পিউটারে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪১০১০৪ রোল নম্বর দিয়ে শামিমা আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভর্তি হয়ে শামিমা ১ম সেমিস্টারের ক্লাস নিয়মিত করেছিল। এছাড়া যথারীতি ফরম ফিলআপ করে ১ম সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশও নেয়। সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করলেও সন্দেহ তৈরি হয় পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরির সময়। সফটওয়ারে শামীমার রোল না থাকায় রেজাল্ট প্রসেস না করা গেলে বিষয়টি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে এ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি