কালীগঞ্জে ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির নিদর্শন গোড়ার মসজিদ | Daily AjKaler Kontho

কালীগঞ্জে ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির নিদর্শন গোড়ার মসজিদ


মোঃ সোহাগ আলী, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
কালীগঞ্জে ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির নিদর্শন গোড়ার মসজিদ

কালীগঞ্জের ঐতিহাসিক গোড়ার মসজিদটি কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে বেলাট দৌলতপুর গ্রামে অবস্থিত।মসজিদটি পঞ্চদশ শতাব্দীর রাজধানীখ্যাত শাহ মোহাম্মদাবাদে সুলতানি শাসনামলের স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন।মসজিদের পূর্বদিকে আছে পুকুর ও ওজু করার সুব্যবস্থা। একটি বড় ও তিনটি ছোট গম্বুজ। বারান্দাসহ মসজিদটি বর্গাকৃতির।প্রতত্ব বিভাগ ১৯৮৩ সালে খননের পর গম্বুজের কেন্দ্রস্থল ২ ফুটের মত ভাঙা দেখতে পান।

একইসঙ্গে মসজিদের পাশে একটি কবরের সন্ধান পাওয়া যায়।কবরটি গোড়াই নামের এক দরবেশের মাজার বলে অনেকের ধারণা। তাঁর নামানুসারে এ মসজিদকে ‘গোড়ার মসজিদ বলে ডাকা হয়।মসজিদে পাঁচ ফুট প্রশস্ত দেওয়াল রয়েছে।পূর্বদিকে তিনটি প্রবেশদ্বার। উত্তর ও দক্ষিণের দেওয়ালে দুটি বড় ও দুটি ছোট প্রবেশপথ এখন জানালা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।পশ্চিমের দেওয়ালে তিনটি মেহরাব আছে। পশ্চিম দেওয়ালে ৭-৮ ফুট লম্বা দুটি এবং উত্তর-দক্ষিণের দেওয়ালে দুটি কালো পাথরের স্তম্ভ আছে।

মসজিদের দেওয়ালে পোড়ামাটির পাতা-ফুলে শোভিত শিকল, ঘণ্টাসহ বিভিন্ন নকশা আছে। বাইরের দেওয়াল পুরোটাই পোড়ামাটির কারুকার্যে অলংকৃত। যা দেখে ভ্রমণ পিপাসুদের অন্তর তৃষ্ণা আরও বহুগুণে বেড়ে যাবে।কিংবদন্তি অনুসারে, গোড়াই নামে একজন সুফী এ অঞ্চলে এই মসজিদটিতে বসবাস করতেন। তার নাম অনুসারে এ মসজিদকে গোড়াই মসজিদ হিসেবে ডাকা হয়।বর্তমানে মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে। মসজিদটি দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।ইতিহাসবিদ ও লোককথা অনুসারে গোরাই নামক একজন মুসলিম সুফী সাধক এ অঞ্চলে ধর্ম প্রচার করতে আসেন। ধারণা করা হয়,গোরাই সুফি সাধক তৎকালীন হযরত খানজাহান আলীর শিষ্য ছিলেন। তিনি কালীগঞ্জের বেলাট দৌলতপুর গ্রামে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তার নামানুসারে এটির নামকরণ হয় গোড়ার মসজিদ। মসজিদটির পাশেই রয়েছে একটি পুরনো কবর। ধারণা করা হয়, ওই কবরটি সুফি সাধক গোরাই দরবেশের। তবে প্রততত্ববিদদের ধারণা গোড়ার মসজিদটি খুব সম্ভবত হোসেন শাহ অথবা তার পুত্র নসরত শাহের শাসনামলে তৈরি করা হয়েছে।

বর্তমানে মসজিদটিতে স্থানীয় মুসল্লিরা ইবাদত বন্দেগী করে থাকেন। মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। মসজিদটি ঘিরে প্রতিদিন দূর-দূরান্তের অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করেন। রমজানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে মসজিদে নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয়।অনেকে আবার বিভিন্ন রোগ বালাই ও মনের আশা পুরনের জন্য মান্নত করেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি