অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, ১১ মামলা দায়ের | Daily AjKaler Kontho

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, ১১ মামলা দায়ের


জামাল খান, ময়মনসিংহ ব্যুরো চিফ প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ন
অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, ১১ মামলা দায়ের

ময়মনসিংহ অঞ্চলে দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার ও বিভিন্ন অপরাধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিক। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উদঘাটনের এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি বহুবার নানা ধরনের হুমকি, হয়রানি, মামলা-হামলা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবুও পেশাগত দায়িত্ব ও জনস্বার্থে তিনি তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছেন।

সাংবাদিক মহলের দাবি, একসময় ময়মনসিংহ অঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন অপরাধ সিন্ডিকেটকে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তি নানাভাবে সহায়তা করতেন। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে এসব চক্রের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জনসম্মুখে চলে আসে। এর ফলে অনেক অপরাধী চক্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
শুধু ময়মনসিংহ নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থপাচার, মাদক ব্যবসা, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা নিয়ে একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন খায়রুল আলম রফিক। তার প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, মাদক কারবারি, অর্থপাচারকারী এবং অপরাধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখেন।

সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ৩৫ জন সংসদ সদস্য, পাঁচজন মন্ত্রী এবং ১৩২ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য ও অভিযোগভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এসব প্রতিবেদনের কারণে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে সরে আসেননি।

এদিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতেও কাজ করছেন খায়রুল আলম রফিক। ময়মনসিংহ অঞ্চলের তরুণ সাংবাদিক রেজাউল করিম রেজা ও বিল্লাল হোসেন মানিক-কে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় উৎসাহ, প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে তারাও বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্থানীয় সাংবাদিক অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এই কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদক সিন্ডিকেট, দুর্নীতিবাজ চক্র, পুলিশের কথিত দালাল এবং তাদের সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, কিছু সাইবার অপরাধীকে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা যায়।

এ বিষয়ে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক, রেজাউল করিম রেজা ও বিল্লাল হোসেন মানিকসহ একাধিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনায় গত তিন মাসে সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে মামলার পরও অভিযুক্তদের একটি অংশ আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন আইডি ও পেজ ব্যবহার করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিক সমাজের অভিযোগ, ময়মনসিংহে সাইবার অপপ্রচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত বদ ওরফে ‘শয়তান বদ’-এর বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করা সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানহানি ও সাইবার হয়রানি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। তাই এসব অপকর্মে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং সাইবার হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন, আইনি পদক্ষেপ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি