
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
শনিবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে যোগদানপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করলেন।
এর আগে, গত ১৪ মে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী চার বছরের জন্য তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “আমি পেশাগতভাবে একজন শিক্ষক। আপনাদের সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সুপরামর্শ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উন্নত, মানসম্পন্ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে নয়, গড়ে তুলতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়াই আমার লক্ষ্য।”
উল্লেখ্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দবাড়ি গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৫ সালের ১০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এস এস সি ও এইচ এস সিতে জামালপুর থেকে ঢাকা বোর্ড হতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (১৯৯৭) প্রথম শ্রেণিতে ও স্নাতকোত্তর (১৯৯৮) প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় হতে বায়োটেকনোলজি (জৈব প্রযুক্তি) বিষয়ে ২০১০ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৩ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট সহকারী অধ্যাপক, ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করেন।
তাঁর ১০ টি বই এবং ৫৩ টি গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের নানা প্রসিদ্ধ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গবেষণায় ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তাঁর সাইটেশন সংখ্যা ১,৮৫৩টি; এইচ-ইনডেক্স ১৮টি; গবেষণা আগ্রহ স্কোর ১,৫৪৫; মোট পঠিত ৫৩,৩৯৭ এবং সুপারিশ করেছেন ৯৮টি। তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ একডেমি অব সায়েন্স এবং ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সের ‘ইয়াং সায়েন্টিস্ট গোল্ড মেডেল-২০১০’ লাভ করেন। ভারতের ‘ঊষা ভিজ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড- ২০১৯’ লাভ করেন, ইন্ডিয়া সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ ফেলোশিপ, দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, প্রকৌশল ও বিজ্ঞান অনুষদে পোস্ট-ডক্টরেট স্কলারশিপ এবং ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :