
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। তার নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উপাচার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা বেড়েছে তার প্রতি।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে শিক্ষকতা করায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনার জায়গাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ফলে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন তিনি।
নতুন উপাচার্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও তার কাছে প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন দৈনিক সমাচারের কুবি প্রতিনিধি হারেছ আহমেদ।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, “এবার আমাদের ক্যাম্পাস থেকেই নতুন উপাচার্য হয়েছেন। তাই উনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রথমত, কিছু ডিপার্টমেন্টের সেশনজট দ্রুত নিরসন করা, ক্যাম্পাসে গবেষণার পরিবেশ উন্মুক্ত করা এবং কর্পোরেট হাউসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কারিকুলামে নতুনত্ব আনা। হলের আবাসন সংকট ও খাবারের মান উন্নত করা এবং বাস সার্ভিস শিক্ষার্থীদের জন্য সহনীয় করা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবগুলোকে কাজ করার জন্য আরও সুযোগ দেওয়া। সর্বোপরি শিক্ষার্থীবান্ধব নিরাপদ ক্যাম্পাস উপহার দেওয়া।”
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা আলম চৌধুরী বলেন, “নতুন উপাচার্য স্যারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, নতুন ক্যাম্পাসের চলমান কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলা। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত বাস সার্ভিসের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রত্যাশা। আমি বিশ্বাস করি উপাচার্য স্যার একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও ইতিবাচক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহমদ আশরাফী বলেন, “একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি আশা করি, স্যারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, শিক্ষাবান্ধব, গবেষণামুখী ও ইতিবাচক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে উঠবে। আমি আশা করছি তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর শুনেছি, ইতিপূর্বে কুবিতে শিক্ষক সমিতির একটি আন্দোলনের কারণে তৎকালীন প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই আমরা প্রত্যাশা করি, নতুন উপাচার্য স্যার এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না যাতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বা পড়ালেখার ক্ষতি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আশা করছি তিনি প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।”
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ সরকার বলেন, “নতুন উপাচার্য স্যারের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য একটি আধুনিক জিমনেসিয়ামের ব্যবস্থা করা। হলের খাবারের মান উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভালো ও পুষ্টিকর খাবার শিক্ষার্থীদের সুস্থতা ও পড়াশোনার মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আশা করি নতুন প্রশাসন এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এছাড়াও লাইব্রেরিকে এমন জায়গায় স্থানান্তর করা, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে যাতায়াত করতে পারে অথবা লিফটের ব্যবস্থা করা। আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে।”
ফার্মেসি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলেন, “স্যারের নেতৃত্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি। ল্যাবভিত্তিক বিভাগগুলোর ল্যাব ও গবেষণামূলক কার্যক্রম আরও উন্নত ও আধুনিক করার বিষয়ে স্যারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। ল্যাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত সুবিধা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করা হলে তা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে অনেক বেশি সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহানুভূতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন সময়ে অনেক শিক্ষার্থী একাডেমিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এ সময়ে বিশেষ সহায়তা বা কিছু নমনীয় ব্যবস্থা চালু করা হলে নারী শিক্ষার্থীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :