কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চলছে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ | Daily AjKaler Kontho

কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চলছে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ


কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চলছে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

কুড়িগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এ নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্য দিয়ে চলছে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির সুপারিটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার, অতিরিক্ত ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর যোগদানের পর থেকেই সুপার জয়নুল আবেদীন নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নামে সরকারি অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের বিষয়ে অডিট টিম অসঙ্গতি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি বিধি উপেক্ষা করে নিজ বাসভবনে না উঠে দীর্ঘদিন ধরে গেস্টরুমে অবস্থান করছেন তিনি। এ ছাড়া বাসাভাড়া, টিচিং লার্নিং মেটেরিয়াল, মনোহরি, ভ্রমণ বিল, সরঞ্জামাদি, তথ্যপুস্তক, ম্যাগাজিন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ডিএ ভাতা ও প্রশিক্ষণ ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিটিআই প্রাঙ্গণ জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও আবাসিক হোস্টেলে অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রধান ফটক দিন-রাত খোলা থাকায় বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত, মাদকসেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় মাঠে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল, মাদকসেবন ও জুয়ার আসর বসার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের খেলার সরঞ্জাম অচল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক জানান, প্রশিক্ষণ শেষে এখনো তারা ভাতা পাননি। খাবারের মান ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো ব্যানার ব্যবহার করেই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ থেকে আসা কয়েকজন ইনস্ট্রাক্টর জানান, আবাসন ব্যবস্থা অনুপযোগী হওয়ায় তাদের বাইরে হোটেলে থাকতে হচ্ছে। মহিলা হোস্টেলের পরিবেশও অত্যন্ত নাজুক বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে অডিটর জয়ন্ত বলেন, “কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ে আর্থিক অসঙ্গতির বিষয় পাওয়া গেছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”

তবে কুড়িগ্রাম পিটিআইয়ের সুপারিটেনডেন্ট জয়নুল আবেদীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অডিট টিমের উত্থাপিত বিষয়গুলোর যথাযথ জবাব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা বরাদ্দ এলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে।” তিনি গেস্টরুমে থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নাকচ করেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি