
ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা একাধিক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. রাজিবকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) নগরীর কৃষ্টপুর এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মো. রাজিব কোতোয়ালী মডেল থানার একাধিক মামলার পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজিবের পিতার নাম যুবের আলমাস এবং তার স্থায়ী ঠিকানা কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কুষ্টিয়া (দক্ষিণ পাড়া) এলাকায়। ২০১৮ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের হয়, যা তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
ডিবি পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাজিবকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল। অবশেষে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বিশেষ কৌশলে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “গ্রেফতারকৃত আসামি একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাকে আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, ময়মনসিংহ জেলায় অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল ডিবি পুলিশের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এতে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে এবং অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :