
কালিগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অন্যের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন কালিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র আব্দুস সাত্তার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা তিন ভাই যথাক্রমে হাজী আনিসুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও জাফর আলী ২০০৭ সালে কালিগঞ্জ থানার দমদমা মৌজার খতিয়ান নম্বর: ১৩৭, দাগ নম্বর: ২৫, জমিটি এস এ রেকর্ডীয় মালিক কুলসুম বিবির নিকট হতে ক্রয় করি। ক্রয়কৃত জমির মালিকানা স্বত্ব দাবি করে একই সালে আদম আলী গাজীর পুত্র বিএনপি নেতা আফসার গাজী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হলে ২০১১ সালে বিজ্ঞ কালিগঞ্জ আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন।
উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে একসময়ে (২০০১-২০০৫) ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও বর্তমানে কালীগঞ্জ থানাধীন ভাড়া শিমলা ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি আফসার উদ্দিন গাজী পুনরায় মামলা দায়ের করে কালীগঞ্জ জজ আদালতে এবং জমিটি জবর দখলের অপ্রচেষ্টা করে। ২০১৭ সালে বিজ্ঞ আদালত আফসারের আনীত অভিযোগে মামলাটি ভিত্তিহীন ও আইনবিরুদ্ধ বলে উল্লেখ করে জমির ক্রয়কৃত মালিকগণের জমির মালিকানা প্রদানের রায় দেন।
রায়ের প্রেক্ষিতে জমির মালিকগণ জমির নামজারি ও খাজনা প্রদানের নিমিত্তে দ্বারস্থ হলে উক্ত তহসিল অফিস সে সময় উভয়পক্ষের শুনানের মাধ্যমে, তাহসিল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জমির ক্রয়কৃত মালিক গণের পক্ষে রায় প্রদান করে উক্ত জমির মিউটেশন সম্পন্ন ও খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে আছি।
দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আফসার আলী গাজী তার ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে অবৈধভাবে জবর দখলের চেষ্টা করে এবং উল্টো আদালতের মাধ্যমে পুনরায় ১৪৫ ধারায় মামলা করে। উক্ত আদালত কালীগঞ্জ থানায় তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পেশ করার দায়িত্ব প্রদান করেন। তার প্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ থানা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা সরজমিনে উক্ত জমিতে পরিদর্শন করে মালিকগণের পক্ষে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উক্ত জমিতে আপাতত প্রবেশাধিকার নিষেধ করেন।
উক্ত জমিতে দখল গ্রহণের মাধ্যমে মালিকগণ দীর্ঘদিণ ধরে ঘেরের প্রজেক্ট পরিচালনা করে আসছে।এদিকে আফসার মেম্বার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মালিকগণের ঘেরে চাষকৃত কোরাল, টেংরা, বাগদা, পারশে ও তেলাপিয়া মাছ সহ এক লক্ষ আশি হাজার টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং ঘেরের বাসা ভাংচুর করে ও লুটপাট চালায়। এছাড়া ঘেরের বেড়ীবাধ কেটে দিয়ে ক্যানেলের বাকি মাছ উন্মুক্ত করে দেয়। এতে আমাদের আরো প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত ক্ষতিসাধন করে।
উক্ত তাদের লুটপাটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে আফসার এবং তারা ভাড়াটিয়া লোকজন আমাদের মারপিট করতে উদ্যত হয় এবং জমির পুনরায় জবরদখল করবে ও খুন জখমের হুমকি ও প্রদান করে। উক্ত ঘটনার সাক্ষী হিসেবে এলাকাবাসী আজিজুল ইসলাম ও লিটন পাড় বিষয়টি নিশ্চিত করে। এঘটনায় মালিকমালিকগণ আফসার আলী গাজীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জমির মালিকগণ এলাকার নিরীহ এবং শান্তিপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।
অন্যদিকে আফসার আলী গাজী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকার মানুষের জমি জবর দখলের নেশায় মেতে উঠেছে। আফসার আলী একাধিক মানুষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। ভুক্তভোগীরা ওই জবর দখলকারী আফসারের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা করে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :