ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং পাচার প্রতিরোধে বিজিবি কর্তৃক গৃহীত বিশেষ কর্মসূচির | Daily AjKaler Kontho

ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং পাচার প্রতিরোধে বিজিবি কর্তৃক গৃহীত বিশেষ কর্মসূচির


মোঃ আতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ন
ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং পাচার প্রতিরোধে বিজিবি কর্তৃক গৃহীত বিশেষ কর্মসূচির

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ৬০০ কিঃ মিঃ বিস্তৃত। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ০২টি সেক্টরের অধীনে ০৭টি ইউনিটের ১১৬ টি বিওপি’র মাধ্যমে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৪৬৪ টি টহল পরিচালনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ, আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র ঈদ-উল-আজহা (কোরবানি ঈদ) উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সম্ভাব্য পশু চোরাচালান রোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাপক ও সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে; এ প্রেক্ষিতে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তীসহ অন্যান্য এলাকায় গৃহীত বিশেষ ব্যবস্থাসমূহ নিম্নরুপঃ দায়িত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা এবং দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি/রপ্তানির যানবাহনে বিগত ২৪ ঘন্টায় ২৫ টি বিশেষ নজরদারী/তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

স্থল বন্দর ও সীমান্তবর্তী ২২ টি তেল পাম্প এ নিয়মিত নজরদারী, বিশেষ চেকিং এবং শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য ভোজ্য ও জ্বালানি তেল চোরাচালানের রুট চিহ্নিত করতঃ সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিসহ এ যাবত ২৩৯৭ টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য তেল চোরাচালানের রুটে এ যাবত ৯৫১ টি বিশেষ চেকপোষ্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এ যাবত ৯২৩ টি বিশেষ জনসচেতনতা/মত বিনিময় সভা পরিচালনা করা হয়েছে। জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যা ব, পুলিশ এবং শুল্ক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে ৩১টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে; যাতে অবৈধভাবে মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দসহ ০১ জনকে ০২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৫,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।
তেল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে এ যাবত ৭০ টি যৌথ নজরদারী, তল্লাশি ও চেক পোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে বিজিবি বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জনগণের মাঝে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। এছাড়াও, নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যশোর রিজিয়ন সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে চলতি ২০২৬ সালে ৯১ জন আসামীসহ সর্বমোট ৬০ কোটি ৪০ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ১.৭৪১১৫ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫.৭৬ গ্রাম হিরক, ১০.৫ কেজি রৌপ্য, ৪২ টি বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও, ২০২৫ সালে যশোর রিজিয়ন ৪২০ জন আসামীসহ সর্বমোট ৩৭৭ কোটি ৪৬ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়; এর মধ্যে ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ৫৩ কেজি রৌপ্য, ২৭ টি অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি উল্লেখ্যযোগ্য। চোরাচালানী অভিযানের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে চলতি ২০২৬ সালে ২৪৫০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১৩৯ কেজি গাঁজা, ৩০৪৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪২০০ বোতল এর অধিক ফেন্সিডিলসহ সর্বমোট ২২ কোটি ৩৭ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও গত ২০২৫ সালে বিভিন্ন সময়ে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৩০,৮০০ বোতল মদ, ৩৭ কেজি হিরোইন, ১,৬১,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৯,০০০ বোতল ফেন্সিডিল, ২,০০০ কেজি, অধিক গাঁজাসহ সর্বমোট ১৯ কোটি ৫২ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য আটক করতে সক্ষম হয়।

বিজিবি মহাপরিচালক মহোদয়ের ভিশন- ‘বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি সদস্য সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্তে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ চলমান ভোজ্য ও জ্বালানি তেল মজুদ এবং পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ; তাই আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি