নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষার মাসে তারুণ্যের ভাবনা | Daily AjKaler Kontho

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষার মাসে তারুণ্যের ভাবনা


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষার মাসে তারুণ্যের ভাবনা

ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মত্যাগ, গৌরব ও ভাষার প্রতি অঙ্গীকারের মাস। এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় একুশের সেই রক্তাক্ত ইতিহাস, যখন মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালি তরুণরা জীবন দিয়েছিলেন। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয় এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও চেতনার প্রধান বাহন।আজকের প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে বসবাস করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্পোরেট সংস্কৃতি ও বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে পড়ছে। কথোপকথনে অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি শব্দের ব্যবহার, বিকৃত বানান ও উচ্চারণ ধীরে ধীরে আমাদের ভাষার শুদ্ধতাকে প্রভাবিত করছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভাষা চর্চা ও সঠিক প্রয়োগের গুরুত্ব নতুন করে অনুভূত হচ্ছে।ভাষার জন্য জীবন দেয়া শহীদদের স্মৃতি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভাষার চর্চা ও বাস্তবে ভাষার ব্যবহার এ নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক শিহাবুল ইসলাম শাহেদ ।

বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পাক মাতৃভাষা
মো:সাগর উদ্দিন।

ভাষা আমাদের পরিচয়, আমাদের আত্মার অংশ। সময়ের সঙ্গে ভাষা বদলাবে, নতুন শব্দ আসবে, ইংরেজির ব্যবহারও বাড়বে। কথাবার্তায় ইংরেজি মিশ্রণ অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগকে সহজ ও আধুনিক করে। তবে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত ইংরেজি ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে মাতৃভাষার সৌন্দর্য, শব্দভান্ডার ও স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।১৯৫২ সালে ঢাকা-এর রাজপথে আমাদের ভাষার জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল, তা শুধু ভাষার দাবি নয়, ছিল আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে – মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।তাই ইংরেজি শেখা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করবো, কিন্তু মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, সচেতনতা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখাই হোক তারুণ্যের প্রথম অঙ্গীকার।

বিশুদ্ধ ভাষাই আমাদের পরিচয়
আরমান হোসেন

‎ফেব্রুয়ারি বাঙালির চেতনার মাস;ভাষার মাস।
‎পথের দ্বারে বৃক্ষের ঐ শাঁখা -প্রশাখায় ফুটন্ত শিমুল -কৃষ্ণচূড়ার মতোই বিশুদ্ধ আমাদের এই ভাষা ।
‎ মায়ের মুখের ভাষার মতোই মধুর;আবেগ ও ভালোবাসাময় নির্বাক মমতাই মাখানো এ ভাষা।
‎যে ভাষা ১৯৫২ এর ২১শে ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত ছিল অবহেলিত।‎যেন রাজপথ -মেঠো পথের দ্বারে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা এক রক্তাক্ত কৃষ্ণচূড়ার মতোই সুন্দর অথচ অবহেলিত।‎কিন্ত বাংলার নির্ভীক সাহসী সন্তানেরা তা হতে দেয়নি।রক্তের দাম দিয়ে তারা এই ভাষা আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন।যা আমাদের প্রাণের ভাষা -মনের ভাষা।‎অথচ প্রযুক্তির এই যুগে এসে ইংরেজি -বাংলার মিশ্রুন এর ফলে ভাষা হারাচ্ছে তার মাধুর্য তা, হারাচ্ছে তার সাবলীলতা ।‎তরুন প্রজন্মের মধ্যে বিশুদ্ধ বাংলা ভাষা চর্চা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কালের গর্ভে ; আধুনিকতার অভিশাপে।‎আমাদের নতুন প্রজন্মকে ভাষা -আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশুদ্ধ বাংলা ভাষা চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে।‎বাংলা ভাষাকে আধুনিকতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার কোন বিকল্প নেই ।‎একমাত্র বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার মাধ্যমেই বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে।

ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও প্রয়োগ জরুরী
নাতাশা নওশীন তরী

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এটা আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করলে মনের ভাব প্রকাশ স্পষ্ট, সুন্দর ও প্রভাবশালী হয়। যেহেতু আমাদের দেশের অঞ্চলভেদে ভাষার উচ্চারণে পরিবর্তন রয়েছে তাই সঠিক বাংলা ভাষার উচ্চারণ জানা ও চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজন, বিশেষ করে বাংলা ভাষাকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্র, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুদ্ধ বাংলা চর্চা আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করে এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক ভাষা শেখায়।তাই বাংলা ভাষার বিকৃত রোধ করতে ও সঠিক বাংলা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে আমাদের উচিত শুদ্ধ বাংলা চর্চা।

“একুশের চেতনায় জাগুক তরুণ সমাজ”
আনান আহমেদ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে যুগান্তকারী ও গৌরবময় এক অধ্যায়। ভাষা আন্দোলনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার ছাত্র ছাত্রীরা বাংলা ভাষার মান রক্ষার্থে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছিল।ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ থেকে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যেভাবে শিক্ষা নিতে পারে প্রথমত মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে।অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মনমানসিকতা থাকতে হবে।জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রত্যেক জাতির জন্য বড় শক্তি এই বিষয় টি নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। ত্যাগের মনমানসিকতা গড়ে তুলতে হবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।এইসব শিক্ষা তরুণ প্রজন্মের বাস্তব জীবনেও প্রয়োগ করতে হবে। যেমন:- বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও অন্য ভাষাকে সম্মান করতে হবে।দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে।তাছাড়া শিক্ষা, গবেষণা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দূর্নীতি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে।

ভাষা আন্দোলনের চেতনা শুধু ফেব্রুয়ারিতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তা প্রতিদিনের চর্চায় রূপ দিতে হবে। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানে কেবল ফুল দেওয়া নয় বরং সঠিক বানান, শুদ্ধ উচ্চারণ ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

সবশেষে, তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকার হোক বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা, বিকৃতি প্রতিরোধ এবং জ্ঞানচর্চায় বাংলার বিস্তার ঘটানো। ভাষার মাস আমাদের শিখিয়েছে, ভাষার জন্য ত্যাগ যেমন সম্ভব, তেমনি ভাষার জন্য দায়িত্বও অপরিহার্য।

আজকালের কন্ঠ/আর বি