
বাংলাদেশের আকাশে আজ বুধবার পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে মুসলমানরা সিয়াম সাধনা শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও ফজিলতপূর্ণ মাস মাহে রমজান।
পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের মাস হিসেবে বিবেচিত। এ মাসে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার ও ভোগবিলাস থেকে বিরত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে রোজা পালন করেন। রোজা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়, বরং এটি মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি করে।
রমজান মাসে মুসলমানরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি তারাবির নামাজ আদায় করেন এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতে অধিক মনোযোগী হন। এ মাসে দান-সদকা, যাকাত ও ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইতোমধ্যে দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদমুখী হচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইফতার মাহফিল, দোয়া ও কোরআন খতমের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাজারগুলোতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ইফতার সামগ্রী কেনাকাটায় মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পবিত্র এই মাস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তারা সবাই মাহে রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
মহিমান্বিত এই মাহে রমজান দেশ ও জাতির জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, কল্যাণ, সংযম ও সমৃদ্ধির বার্তা—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আগত পবিত্র এই মাস আমাদের সবার জীবনে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ হয়ে উঠুক—এটাই সবার কামনা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :