জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যো পতাকা বৈঠক | Daily AjKaler Kontho

জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যো পতাকা বৈঠক


মোঃ আতিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যো পতাকা বৈঠক

আজ ১১ই ফেব্রুয়ারী বুধবার বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে ভোমরাস্থল-বন্দর সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যো পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকের লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সাতক্ষীরা সদরের ঘোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন রানার নানার বাড়ি ভারতের ঘোজাডাঙ্গায়, গতোকাল তার নানি মারা যাওয়ায় শেষ বারের মতো নানির মৃত মুখ দেখার জন্য ভোমরা ক্যাম্পের বিজিবির সাথে যোগাযোগ করলে বিজিবি বিএসএফ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যো পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শেষ বারের মতো মৃত মুখটা দেখানোর ব্যবস্থা করে।

আগামী কাল ১২ই ফেব্রুযারী বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্পর্কে ভারতীয় বিএস এফ সদস্যেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের উপর বাড়তি কোনো প্রভাব নেই।স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পরে ভারত সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা সীমিত করে দেয় যার ফলে দুই দেশের নাগরিকদের আত্নীয়র বন্ধন এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর মধ্যে সুসম্পর্ক, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে ও কাঁটাতারের বাধা দূর করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও দুই দেশের মধ্যে ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা (কাঁটাতারের বেড়া) রয়েছে, তথাপি সীমান্ত বাহিনীগুলো প্রায়শই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মীয়-স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয়। এখানে সীমান্ত বাহিনীগুলোর এই বন্ধুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:

মানবিক উদ্যোগ ও সাক্ষাৎ: সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বহু পরিবারের বৈবাহিক বা রক্তের সম্পর্ক কাঁটাতারের ওপারে। বিজিবি ও বিএসএফ নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে, বিশেষ করে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা বা কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুর মতো পরিস্থিতিতে ‘জিরো লাইন’-এ (শূণ্যরেখা) বা বিওপি (Border Outpost) পর্যায়ে মুখোমুখি সাক্ষাতের সুযোগ দেয়।

সীমান্ত বৈঠক (Flag Meetings) বিজিবি-বিএসএফ’র সেক্টর কমান্ডার এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে নিয়মিত সীমান্ত বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে কেবল অপরাধ দমন নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও প্রাধান্য পায়।বিশ্বাস ও সহযোগিতা: সীমান্ত বাহিনীগুলো নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে, যা সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মীয়দের সাথে দেখা করার ভীতি দূর করে।

কাঁটাতারে থমকে না যাওয়া আত্মীয়তা: প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার বেড়াজালে অনেক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হলেও, বিজিবি-বিএসএফ’র মানবিক আচরণ অনেক ক্ষেত্রে ওই পরিবারগুলোর জন্য এক টুকরো স্বস্তি নিয়ে আসে। যদিও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কখনো কখনো সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়, তবুও স্থানীয় পর্যায়ে বিজিবি এবং বিএসএফ পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সাধারণ মানুষের আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে সচেষ্ট থাক।

আজকালের কন্ঠ/ আর এস/এ