লক্ষ্মীপুর জেলা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ভোট, ২১৮ কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা | Daily AjKaler Kontho

লক্ষ্মীপুর জেলা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ভোট, ২১৮ কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
লক্ষ্মীপুর জেলা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ভোট, ২১৮ কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন প্রশাসন। অতীতের সহিংসতা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং অবৈধ অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় এসব কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভোটের আগে ও ভোটগ্রহণের দিন সহিংসতা, কেন্দ্র দখল কিংবা সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ ভোটার ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে প্রশাসনের দাবি, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারটি আসনের ২১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন এক হাজার ৩১৩ জন পুলিশ, ৬০০ জন সেনাসদস্য, ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং আনসার-র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিতের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

চার আসনে ভোটার চিত্র

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী—

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন, পোস্টাল ভোটার ৭ হাজার ৪০।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর একাংশ) আসনে ভোটার ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬২ জন, পোস্টাল ১০ হাজার ৬৩।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ভোটার ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৫ জন, পোস্টাল ৯ হাজার ৮৬৭।

লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর ও রামগতি) আসনে ভোটার ৪ লাখ ১২ হাজার ২৯৩ জন, পোস্টাল ৫ হাজার ৮৬৫।

জেলায় মোট ভোটার ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯০৪ জন। এর মধ্যে নারী ৭ লাখ ৯০ হাজার ২৫৭ এবং পুরুষ ৮ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৭ জন। ২০২৫ সালের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী আগের নির্বাচনের তুলনায় ভোটার বেড়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ৩২৮ জন।

থানাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ

থানাভিত্তিক তথ্য বলছে, সদর মডেল থানা, চন্দ্রগঞ্জ ও রামগতি এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। চন্দ্রগঞ্জ থানার ৭৭টির মধ্যে ৪০টি এবং সদর মডেল থানার ১২২টির মধ্যে ৮৬টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া রামগঞ্জ, কমলনগর ও রায়পুরের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রেও বাড়তি সতর্কতা রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান আরও জোরদারের দাবি ওঠে। প্রশাসনের ভাষ্য, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সক্রিয় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে কিছু এলাকায় আতঙ্ক রয়েছে।

প্রার্থী ও উদ্বেগ

চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

প্রশাসনের আশ্বাস

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’