
শেরপুর জেলাজুড়ে মাঠে মাঠে সরিষার ব্যাপক আবাদ চোখে পড়ছে। সবুজের বুকে হলুদ ফুলের সমারোহে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ। সরিষার ফুলের মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে, যা আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদী কৃষকরা।
চারদিকে তাকালেই দেখা যায়—সবুজ ফসলের ফাঁকে ফাঁকে হলুদ ফুলে ঢাকা বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। কখনো কখনো এসব ক্ষেতে বসছে পোকা-খাদক সুইচোরা, বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
দিন দিন শেরপুর জেলায় সরিষার আবাদ বাড়ছে। বাজারে ভালো দাম ও প্রত্যাশিত ফলন পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে বহুগুণ। শুধু তেলবীজ হিসেবেই নয়, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক কৃষক মধু উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকছেন। ফলে একই জমি থেকে একাধিক উপায়ে লাভবান হচ্ছেন তারা।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে শেরপুর জেলায় যে পরিমাণ সরিষা উৎপাদন হবে, তা জেলার মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে জেলার ভোজ্যতেল চাহিদা পূরণেও সরিষা চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শেরপুর সদর উপজেলার কামারের চর, লছমনপুর, চরপক্ষীমারী, বেতমারী, ঘুঘুরাকান্দি ও চরশেরপুরসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব এলাকায় এখন কেবল সরিষা ক্ষেতের হলুদ আভা চোখে পড়ে।
শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু জানান, চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা—যেমন টরি-৭, বারি সরিষা-৯, ১৪ ও ১৭—চাষ করা হয়েছে। সদর উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক মৌচাষি সরিষা ক্ষেতে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি ফসলের পরাগায়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রায় ৬ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে সরিষা বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল। প্রতি বিঘায় চাষ খরচ পড়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা, আর উৎপাদন হয় ৫ থেকে ৭ মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ সরিষা ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি বিঘায় কৃষকের লাভ থাকছে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কৃষকদের প্রযুক্তিগতসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শেরপুর জেলায় দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :