লক্ষ্মীপুরে নির্বাচন ঘিরে অস্ত্রবাজির আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ | Daily AjKaler Kontho

লক্ষ্মীপুরে নির্বাচন ঘিরে অস্ত্রবাজির আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৪, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
লক্ষ্মীপুরে নির্বাচন ঘিরে অস্ত্রবাজির আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলায় অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও শক্তি প্রদর্শনে ব্যবহৃত হতে পারে।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। বিশেষ করে রাত নামলেই সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চল, চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা এবং মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চল—চর আব্দুল্লাহসহ দুর্গম এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মহড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও জামায়াত ঘোষিত সংসদ সদস্য প্রার্থীরাও। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একাধিক সভা-সমাবেশ করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মদদে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে—এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, অনেক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় থাকলেও তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে শিশু, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারাও রেহাই পাচ্ছেন না।

নির্বাচনকে ঘিরে অস্ত্রবাজির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি সরকারের শীর্ষস্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা লক্ষ্মীপুর থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত ও সহিংসতা রোধে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা চাইলে ব্যক্তিগত অস্ত্রের জন্য লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হবে। আগের নির্বাচনগুলোর মতো এবার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা নেওয়া হবে না।

অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ্মীপুর জেলায় বর্তমানে অন্তত ২০টি ছোট-বড় সন্ত্রাসী বাহিনী ও উপ-বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তারা চাঁদাবাজি, হত্যা, গুলিবর্ষণ, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত। ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিম চন্দ্রগঞ্জ বাজারে একটি ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র তৈরির সন্ধান পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। পরবর্তী সময়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে পাঁচটি রাইফেল ও একটি এলজি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সবশেষ গত ১৫ নভেম্বর রাতে সদর উপজেলার পশ্চিম লতিফপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহিরকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলীয় প্রার্থী ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “অবৈধ অস্ত্রের কাছে কেউ নিরাপদ নয়। নির্বাচনের আগেই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও এমপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি আমরা বারবার জানিয়েছি। নির্বাচন বানচালের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।”

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। ইতোমধ্যে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রত্যাশা—আতঙ্ক নয়, নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা।

আজকালের কন্ঠ /আর এস/জে