কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসে শিক্ষক-লাঞ্চিতের ঘটনায় বাস আটক | Daily AjKaler Kontho

কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসে শিক্ষক-লাঞ্চিতের ঘটনায় বাস আটক


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫, ১:৫৪ অপরাহ্ন
কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসে শিক্ষক-লাঞ্চিতের ঘটনায় বাস আটক

মো: রাকিবুল হাসান, দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এক শিক্ষককে লাঞ্চিত করেছে ও হুমকি দিয়েছেন ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৮৭৭৫) একটি বাসের চালক ও হেলপার। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা বাস অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখায় আটকে রাখেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুর দেরটা’য়।যাত্রা শুরু থেকেই চালক মো. জসিম বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা বারবার আপত্তি জানালেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। দুপুর দুইটা’র দিকে গোপালগঞ্জের বড়ইতলা এলাকায় যাত্রীদের সঙ্গে চালকের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় পবিপ্রবির অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মুন্না প্রতিবাদ করলে চালক তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে চড়াও হয়ে হামলার চেষ্টা করেন।

এতে শিক্ষার্থী মুহিব, সাগর ও আরিফ প্রতিবাদ জানালে হেলপার শাকিল তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। যাত্রীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও অধ্যাপক আসাদুজ্জামান নিরাপত্তার অভাব বোধ করে ভাঙ্গা এলাকায় নেমে যান।

তবে ঢাকার সায়দাবাদে পৌঁছে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা নামতে চাইলে হেলপার শাকিল লাঠি নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হতে উদ্যত হন এবং টিটিপাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোদের মেরে ফেললেও আমাদের কিছুই করতে পারবে না।”

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পাগলা মোড়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাস আটকে রাখেন। তাদের দাবি, চালক-হেলপারসহ মালিকপক্ষ সরাসরি ক্ষমা চেয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ প্রত্যাহার করবেন না।

অধ্যাপক আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “আমি কেবল ড্রাইভারকে ধীরে গাড়ি চালাতে বলেছিলাম। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে, গালাগাল করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে যাত্রীদের সহায়তায় আমি ভাঙ্গায় নেমে যাই।”

এ বিষয়ে ইউনিক পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার এম এ মিন্টু এ প্রতিবেদককে বলেন, “চালক জসিমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এমন ঘটনার সঙ্গে ইউনিক পরিবহন পরিবার কখনোই একাত্ম নয়।”

এ ঘটনার জেরে এই মুহুর্তে এলাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।