
:: সাভার প্রতিনিধি ::
সাভারের ব্যবসায়ী ‘সোহেল এন্টারপ্রাইজ’ এর মালিক মোহাম্মদ সোহেল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানের মঞ্জুরুল আলম রাজীবের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো চাঁদার পরিমান দ্বিগুণ করলো ক্ষিপ্ত ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আহমদ। উপজেলা চেয়ারম্যানের আশ্বাস পেয়ে স্বস্তিতে ফিরলেও দশ দিন পর হামলার শিকার হয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
সাভার উপজেলায় শনিবার (২৭ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। এলাকার উপজিলা চেয়ারম্যান এর কাছে বিষয়টি জানতে চায়লে ‘তিনি সমাধান করে দিয়েছেন, তার পরে কেন এমনিট হয়েছে তিনি খোঁজনিয়ে জানাচ্ছেন বলে জানান।
পরিবারের থেকে জানানো হয়, র্দীঘ দিন থেকেই শিহাব ও শাকিল গ্রুপ তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে চাঁদা চাইতো, না দিলে নানা রকম নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তারা। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েও তিনি মামলায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার আশায় উপজেলা চেয়ারম্যানের মঞ্জুরুল আলম রাজীবের শরণাপন্ন হন। শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শাকিল, শিহান ও তারদের কর্মীবাহিনী নিয়ে দুই লাখ টাকা না দেওয়ায় হামলার শিকার হন সোহেল।
শাকিল এ সময় সোহেলকে ২ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলেন। এ কথায় সোহেল রাজি হননি। এতে ক্ষুদ্ধ হন শিহাব তিনি সোহেলকে মুখের ওপর কিল, থাপ্পড় মারেন। থাপ্পড় দেয়ার প্রতিবাদ করায় লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে আহত করেন। এ সময় তিনি মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সোহেল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় সোহেল রোববার (৩০ জুলাই) বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, সোহেল থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য এসেছিল তবে বিষয়টি রাজনৈতিক হওয়ায় আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের পর্রামশ দিয়েছি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী। সেটা করতে গিয়েও হয়রানির শিকার হয়েছে সোহেলের পরিবার। ‘উপজেলা চেয়ারম্যনের কাছে ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হলাম। আমি এখন কোথায় যাব?’ চোখের পানি মুছতে মুছতে সাংবাদিকের কাছে প্রশ্ন রাখলেন মোহাম্মদ সোহেল।
সরেজমিনে গিয়ে গ্রামের আরও দুজনের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতা শিহাব উদ্দিন, শাকিল আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দুজনের বিরুদ্ধেও মাদক কারবার ,জমি দখল, কারখানায় চাঁদাবাজি ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, গত ছয় মাসে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :