আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছু সময় পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই মুক্তিযোদ্ধার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের মাটিতে এটিই তার প্রথম জানাজা।জানfজায় সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্য, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও ছাড়াও খোকার রাজনৈতিক শুভাকাঙক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার আগে খোকার পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন তার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি তার বাবার রুহের মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।
জানাজা শেষে খোকার কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এসময় অনেককে কাঁদতে দেখা গেছে। এর আগে সাদেক হোসেন খোকার লাশ আজ সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।
খোকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তার মরদেহ গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থেকে খোকার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনে নেয়া হয়। লাশবাহী গাড়িতে ছিলেন মির্জা আব্বাস।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার প্রথম জানাজা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সর্বস্তরের বাংলাদেশিরা অংশ নিয়েছেন। জানাজা শেষে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় তার পরিবার।সাদেক হোসেন খোকা সোমবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। ক্যান্সারে আক্রান্ত খোকা প্রায় পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ছিলেন।
সবশেষ ১৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে ভর্তি হন খোকা। গত সোমবার তার শ্বাসনালি থেকে টিউমার অপসারণ করা হয়। নিউইয়র্ক সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে ও বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সাদেক হোসেন খোকা বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তার দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে তাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০১ সালে তার দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০০২ সালে তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হন।
মৃত্যুর আগে বারবার দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন খোকা। সবশেষ হাসপাতালে ভর্তির আগে বন্ধু বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান টুকুকে টেলিফোনে বলেছিলেন, জীবনবাজি রেখে যে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, সে দেশের মাটিতে ফিরতে পাব কিনা আল্লাহ জানেন।
আজকালের কন্ঠ /মিজান
আপনার মতামত লিখুন :